আওয়ামী লীগ সরকার পদত্যাগ করলেই বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে ভোট চুরি করবেই। আর এখন ইভিএম বের করেছে, যেখানে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিলে গিয়ে পড়বে নৌকায়।’ ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গতকাল শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।
বিএনপি আর কখনো হারিয়ে দেয়া নির্বাচনে যাবে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জজ-ব্যারিস্টার ও স্থানীয় এমপি সাহেবের যে অধিকার, জনগণের অধিকারও তাই। এ দেশের মালিক জনগণ। কিন্তু তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে এ সরকার। সরকারের প্রতারণা ও ছলনায় মানুষ আর ভুল করবে না।’
সরকার মানুষের সব অধিকার নষ্ট করে দিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র হলো চুরি করা, লুট ও টাকা পাচার করার গণতন্ত্র এবং মানুষকে হত্যা করার গণতন্ত্র। গত ১৪ বছরে আওয়ামী লীগ নাশকতা ও সন্ত্রাস করে দেশকে শ্মশানে পরিণত করেছে। জগদ্দল পাথরের মতো জনসাধারণের ওপর চেপে বসেছে এ সরকার। তারা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় দেশে সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। কথা কহিলেই মামলা। এ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা কহিবা যাবেনি। ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে সরকারি দলের লোকজন ফুলেফেঁপে বড় হয়েছে। এজন্যই কি দেশ স্বাধীন হয়েছিল?’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি এ অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। জনগণকে এখন নিজের কথা ও অধিকারের জন্য আওয়াজ তুলতে হবে। আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ। বিএনপি কোথাও কোনো অশান্তি করছে না। কিন্তু আঘাত এলে সর্বশক্তি দিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে।’
প্রায় এক মাস কারাবাসের পর মুক্তি পেয়ে প্রথম নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ফ্রন্টের এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের লোকেরা আসলেই অনেক সহজ-সরল। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরাও তাই। তারা বুঝতেও পারে না যে টোপর মাথায় পরা একদিনের বরের যে কদর থাকে, ভোটকে কেন্দ্র করে এ সরকারের কাছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরাও ঠিক তাই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করা আওয়ামী লীগের কাছেই সুরক্ষিত নয়। কেননা দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ যে মারামারি, হানাহানি, মন্দির ভাংচুরের মতো সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলো ঘটছে, এগুলো সব বর্তমান সরকারই ঘটাচ্ছে। আর এগুলোকে অস্ত্র বানিয়ে এ সরকার বারবারই বিএনপির ওপর চাপিয়েছে। যারাই ভিন্নমত পোষণ করবে তাদেরই এ সরকার সন্ত্রাস বানিয়ে দেয়। তারা এ দেশকে আওয়ামী লীগের দেশ বানাতে চায়। আগামী দিনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এ জবরদখলকারী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকা এ সরকারকে আর কোনোভাবেই ভোট চুরির সুযোগ দেয়া হবে না।’
২৭ দফা নতুন রূপরেখা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করা হবে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে কমিশন গঠনের মাধ্যমে তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করে নিশ্চিত করা হবে জনগণের ন্যায়বিচার। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পরপর দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না, এ লক্ষ্যে সংশোধনী করা হবে।’
জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ফ্রন্টের সভাপতি মনোরঞ্জন সিংসহ জেলা বিএনপি নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।










