একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে অংশগ্রহণ করেছেন এমন পাঁচ নারীও শোনান ভোটের মাঠে তাদের চ্যালেঞ্জ ও আশার কথা।
রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে গতকাল বেলা ৩টায় আমন্ত্রিত সাহসী ও সংগ্রামী নারীরা তাদের সফলতা-ব্যর্থতার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। বিভিন্ন বয়সের ও নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফল এ নারীরা তাদের জীবন ও সংগ্রামের গল্প শুনিয়ে একে অপরকে অনুপ্রাণিত করেন। ভাগাভাগি করে নেন নিজেদের আনন্দ-বেদনা। এ আয়োজনে সহযোগিতা করছে সিটি ব্যাংকের নারী ব্যাংকিং শাখা ‘সিটি আলো’।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই আগত অতিথিদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। তারপর মঞ্চে ডেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল পাঁচ নারীকে তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সংবর্ধনা দেয়া হয়। যাদের নিয়ে এবার নারী দিবসে প্রথম আলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে বলেও জানিয়েছেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ও সাহসী ভূমিকা রাখা এ পাঁচ নারী হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন ডিপার্টমেন্ট সহযোগী অধ্যাপক ডা. মমতাজ আরা, নারী উদ্যোক্তা মারুফা আক্তার, ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাইমা ইসলাম, নারীদের পর্বত আরোহণে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদানকারী সংগঠন ‘সুলতানার স্বপ্ন অবারিত-পর্বত আরোহণের কন্যারা’, দেশী-বিদেশী নানা প্রতিযোগিতায় পুরস্কারজয়ী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় খৈ খৈ মারমা এবং নিজের অর্থায়নে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খেলাধুলার প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক পুরস্কারজয়ী শারমিন ফারহানা চৌধুরী। তারা মঞ্চে এলে তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রত্যেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
এর পরবর্তী পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রথম আলো ট্রাস্টের চেয়ারপারসন রূপালী চৌধুরী মঞ্চে এসে অদ্বিতীয়া শিক্ষাবৃত্তিপ্রাপ্ত দুজন অদম্য মেধাবী নারী—প্রিয়াংকা গোয়ালা ও সানজিদা আলমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তাদের সংগ্রামমুখর সফলতার গল্প শোনান। উল্লেখ্য, এ বৃত্তিপ্রাপ্ত নারীরা সাধারণত প্রতিকূল পরিবেশ থেকে এসেও লেখাপড়া শেষ করে চাকরি জীবনে সফল হয়েছেন।
এর পরবর্তী পর্বে মঞ্চে আসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটের মাঠে লড়াই করা পাঁচ নারী। মঞ্চে এসে তাদের আমন্ত্রণ জানান প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি, বরিশাল-৫ আসনে বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, ঢাকা-১২ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার, ঢাকা-২০ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ, যশোর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা।
ভোটের মাঠে নিজেদের লড়াই ও অদম্য মানসিকতার গল্প তুলে ধরেন তারা। তারা জানান যে কীভাবে নির্বাচনে হেরেও জিতেছেন সমাজের কাছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে জিতে আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘নারীদের জন্য জয়-পরাজয় নির্ধারিত হওয়া উচিত সমাজে সেটা কতটুকু প্রভাব ফেলতে পারে সেটির ওপর। এখনকার নারীদের সংগ্রামের ফলে একদিন রাজনীতির মাঠে ফলপ্রসূ পরিবর্তন আসবে।’
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হলেও অসুস্থ থাকায় ঢাকা-৯ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা উপস্থিত থাকতে পারেননি।
সংবর্ধনাপ্রাপ্ত নারীদের মনোবলের প্রশংসা করে বক্তব্য দেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদের মেয়ে ও ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা আবেদ।
সমাপনী বক্তব্য দেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফীন। এছাড়া পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমিন।










