জামালপুরে নাশকতা পরিকল্পনার দায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সক্রিয় পাঁচ সদস্যকে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল আদালতের স্পেশাল জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে কারী সাইদুর রহমান (৪০), চণ্ডিমণ্ডপ গ্রামের নবাব আলীর ছেলে আক্কাস আলী (৩৮), জামালপুর সদর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের ফয়েজ আলীর ছেলে সাইদুল মিয়া (৪৮), দখলপুর গ্রামের সেকান্দর আলীর ছেলে মো. রুকনুজ্জামান (৩১) ও বন্দ চিথলিয়া গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে আজিজুল হক (৫০)। রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চারজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৫ আগস্ট জামালপুর সদর উপজেলার বন্দ চিথলিয়া গ্রামের আজিজুল হকের বাসায় নাশকতা কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার সময় র্যাব-৯ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় লোহার পাইপের শর্ট পিস, কাচের বোতল এবং বিপুল পরিমাণ সংগঠনের জিহাদি বই জব্দ করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে র্যাবের ডিএডি এম জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি মোহাম্মদ খাজা আলম জানান, ২০০৯ সালের ১৫ জুলাই গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামালপুর সদর উপজেলার বন্দ চিথলিয়া গ্রামের আজিজুল হকের ঘরে অভিযান পরিচালনা করে ময়মনসিংহ র্যাব-৯। এ সময় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে লোহার পাইপের শর্ট পিস, কাচের বোতল ও জিহাদি বইসহ জেএমবির সক্রিয় সদস্য কারী সাইদুর রহমান ও আক্কাস আলীকে আটক করা হয়। পরে তাদের তথ্যমতে সাইদুল মিয়া, মো. রুকনুজ্জামান ও আজিজুল হককে আটক করা হয়। আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে জামালপুর সদর থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত আসামিদের জেলহাজতে পাঠায়। ২০০৯ সালের ২৭ আগস্ট অভিযোগপত্র দাখিলের পর একই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময় মো. রুকনুজ্জামান জামিন নিয়ে বর্তমানে পলাতক। এরপর ২০১৩ সালের ৩ মার্চ মামলটি নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালতে পাঠানো হয়।