আয় কমে যাওয়া ও লোকবল সংকটে ২০০৮ সালে বন্ধ হয়ে যায় চট্টগ্রামের মিরসরাই রেল স্টেশন। তবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে স্টেশনটি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। সে উদ্যোগেও ভাটা পড়েছে। আধুনিক সিগন্যালিং, নতুন ডিজিটাল কক্ষ নির্মাণ, লাইন সংস্কারসহ আধুনিকায়ন করা হলেও চালু হয়নি স্টেশনটি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১৮৯৫ সালের ১ জুলাই কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১৪৯ কিলোমিটার মিটার গেজ রেলপথ নির্মাণ হয়। ব্রিটিশ আমল থেকে স্টেশনে নিয়মিত ট্রেন থামত। সে সময় থেকে এ উপজেলার মানুষ ছিল ট্রেননির্ভর। ভ্রমণ, সবজি, ফলমূল সরবরাহসহ জরুরি কাজে ট্রেনই ছিল প্রিয় পরিবহন। একসময় এ স্টেশন থেকে ভারত ও পাকিস্তানে বিভিন্ন মালপত্র আনা-নেয়া হতো। কিন্তু ২০০৮ সালে আয় কমে যাওয়া ও লোকবল সংকটের কারণে স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়।
সরজমিন দেখা গেছে, অফিস ভবন, টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে সবই রয়েছে স্টেশনে। কিন্তু ট্রেন থামে না। দীর্ঘ ১৫ বছর অবহেলায় পড়ে আছে স্টেশনটি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্টেশনের কক্ষগুলোয় গরু-ছাগল পালন, জুয়ার আসর, মাদকসেবীর আড্ডা বসে। নষ্ট হচ্ছে রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম। বেদখল হয়ে পড়েছে রেলের জায়গা।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, ‘আমরা ট্রেনে সবজি ও ফল দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করতাম। কিন্তু ১৫ বছর ধরে স্টেশনটি বন্ধ থাকায় কৃষক ও চাকরিজীবীরা বিপাকে পড়েছেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেশনমাস্টার সিরাজুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্টেশনটি দ্রুত চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে স্টেশনে অনেক উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। একটা স্টেশন বন্ধ থাকলে পরবর্তী স্টেশনটির সঙ্গে সঠিক সিগন্যাল পাওয়া যায় না। ফলে ট্রেন নির্দিষ্ট গতিতে চলাচল করতে পারে না।’
বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামের (পূর্ব) মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মূলত লোকবলস্বল্পতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ স্টেশন বন্ধ রয়েছে। স্টেশনের গুরুত্ব বিবেচনা করে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করছি মিরসরাই স্টেশনটি পর্যায়ক্রমে চালু হবে। তবে কবে নাগাদ চালু হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।’










