দেশের রফতানি বাণিজ্যকে আরো গতিশীল ও উৎসাহিত করতে আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরেও মোট ৪৩টি খাতে রফতানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে নগদ সহায়তার আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই ও অডিট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে অডিট ফার্ম নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি সার্কুলারে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতি হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার দুই দফায় রফতানি প্রণোদনা হ্রাস করেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় থাকা রাষ্ট্রগুলো নগদ সহায়তা দিতে পারে না। সেই নিয়মকে সামনে রেখেই ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দফায় এ প্রণোদনার হার কমানো হয়। চলতি বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তোরণ হওয়ার কথা থাকলেও ব্যবসায়ী সমাজ ও নীতি নির্ধারকরা এসময় আরো তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার কথা বলেছিলেন। বাংলাদেশও ইতিমধ্যে এলডিসি উত্তোরণের সময়সীমা আরো পিছিয়ে দেয়ার আবেদন জানিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রণোদনার হার আর কমানো হয়নি, বরং তা আগের জায়গাতেই বহাল আছে। এক্ষেত্রে খাতভেদে রফতানিমুখী বিভিন্ন পণ্যে সর্বনিম্ন শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা দেয়া হবে।
এদিকে রফতানি প্রণোদনার অপব্যবহার রোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরীক্ষা (অডিট) কার্যক্রমেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের রফতানির বিপরীতে নগদ সহায়তার আবেদনপত্রগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব নিরীক্ষায় নিয়োজিত সমসংখ্যক অডিট ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষা করানো যাবে। তবে এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১’ এর অনাপত্তি (এনওসি) নেয়া বাধ্যতামূলক।
কোনো ব্যাংকের যদি নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত অডিট ফার্মের প্রয়োজন হয়, তবে এখন আর সরাসরি নিয়োগ দেয়া যাবে না। অতিরিক্ত ফার্ম নিয়োগের যৌক্তিকতা, সংশ্লিষ্ট ফার্মের পূর্ব অভিজ্ঞতা, নগদ সহায়তার ফাইলের (কেস) সংখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, অডিট ফার্ম নিয়োগের এই নতুন নিয়মের ফলে রফতানি ভর্তুকি বিতরণে জালিয়াতি ও অনিয়ম হ্রাস পাবে এবং প্রকৃত রফতানিকারকদের নিকট সরকারের প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।










