উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে নতুন বসতি গড়ে তুলেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পাহাড় কেটে তৈরি করা এসব বসতি রোহিঙ্গাদের কাছে ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে উখিয়ার বালুখালী এলাকা থেকে অন্তত ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গতকাল সকালে উখিয়ার বালুখালীর মরাগাছতলা এলাকায় যৌথ বাহিনীর চালানো অভিযানে বসতিগুলোতে তল্লাশি চালানো হলে শত শত রোহিঙ্গা বেরিয়ে আসেন। অনেকেই ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান। এ সময় ৩৫০টি বসতি থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। অভিযানকালে বসতি ভাড়া দেয়া মালিক পক্ষের কয়েকজনকেও আটক করা হয়েছে। তারা রোহিঙ্গাদের ভাড়া দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পাহাড়ঘেরা উখিয়ার বালুখালীর মরাগাছতলা এলাকায় পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩০০ অবৈধ বসতি। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে হাজারো রোহিঙ্গা বসবাস করছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এসব বসতিতে রোহিঙ্গাদের কাছে ভাড়া দিয়ে জনপ্রতি মাসে ২-৩ হাজার টাকা করে ভাড়া আদায় করত। পাশাপাশি ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনারও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, নিবন্ধিত ক্যাম্পের বাইরে এভাবে রোহিঙ্গাদের বসবাস অপরাধপ্রবণতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
কক্সবাজারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক জরিমানা আদায় করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আটক রোহিঙ্গাদের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের মাধ্যমে পুনরায় নিবন্ধিত ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে। অভিযানে আটক সাতজনের মধ্যে পাঁচজনকে অর্থদণ্ড এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগে দুজনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।’










