যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন ও কালার আল্ট্রাসনো মেশিন দেড় বছর ধরে অকেজো। রোগীদের এ কাজ সারতে হচ্ছে পুরনো দুটি সাদাকালো মেশিন দিয়ে। তবে হাসপাতাল থেকে করা এক্স-রে ও আল্ট্রাসনো রিপোর্ট চিকিৎসকদের মনঃপূত না হওয়ায় রোগীদের দৌড়াতে হচ্ছে ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এতে তারা নানা হয়রানির পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে মেশিন সংস্কারের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, এক্স-রে মেশিন ও কালার আল্ট্রাসনো মেশিন মেরামতে একাধিকবার চিঠি দেয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে সরকারি এ হাসপাতালে রোগীদের সুবিধার্থে বরাদ্দ মেলে সিমেন্স কোম্পানির অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিনটি। রোগীর শরীরে কোনো স্থানে আঘাত কিংবা কোথায় হাড়ভাঙা তা এক্স-রে করার সময় এ মেশিনে সরাসরি ছবি দেখা যায়। এজন্য সেটিকে ‘ফ্লোস কপি’ এক্স-রে মেশিন বলা হয়। এ মেশিনে রোগীর আঘাত শনাক্তের সময় কোনো ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনেরও প্রয়োজন হয় না। এ মেশিনে দুই বছর টানা পরীক্ষা চলে। ২০১১ সালের মাঝামাঝি মেশিনটি অকেজো হয়ে যায়। নানা চিঠি চালাচালির আট বছর পর ২০১৯ সালে মেশিনটি ফের সচল হয়। কয়েক মাস চলার পর ২০২০ সালের মাঝামাঝি আবারো অকেজো হয়ে যায়। সেই থেকে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে কোটি টাকার বেশি মূল্যের সিমেন্স কোম্পানির ৭৫০এম মেশিনটি।

অন্যদিকে ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর তুরস্ক সরকার পরিচালিত তুর্কি ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এজেন্সি (টিকা) যশোর হাসপাতালে ১৯ ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি অনুদান হিসেবে দেয়। এর মধ্যে ছিল একটি থ্রিডি কালার আল্ট্রাসনো মেশিন। এটি দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয় ২০১৮ সালে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই এটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে চালু করলেও কালার পেপার বরাদ্দ না থাকায় সাদাকালো আল্ট্রাসনো করা হচ্ছিল। ২০২২ সালের অক্টোবরে মেশিনটি অকোজো হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে রেডিওলজি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় এক্স-রে মেশিনটি আর কালার আল্ট্রাসনো মেশিনটির ওপর ধুলার আস্তরণ পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল মেশিনের সঙ্গে সিমেন্স কোম্পানির ওই মেশিনটি সচল থাকলে রোগীর সঙ্গে দায়িত্বরত কর্মচারীদেরও সুবিধা হতো। এখন এক মেশিনে কার্যক্রম চলায় রোগীর ভিড়ে বেগ পেতে হচ্ছে।

শহরের বেজপাড়া থেকে যশোর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আজম নামে এক রোগী বলেন, ‘মেশিন অকেজো থাকায় বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে হয়েছে। প্রথমে ডিজিটাল করালেও মানসম্মত না হওয়ায় বাইরের ক্লিনিক থেকে করা হয়েছে।’ এক রোগীর স্বজন মুর্শেদী হক বলেন, ‘গত মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার বড়ভাইয়ের ডান পা ভেঙে যায়। হাসপাতালে নিয়ে এলে এক্স-রে করাতে বলা হয়। কিন্তু হাসপাতালের মেশিন অকেজো থাকায় পাশের ক্লিনিক থেকে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে সেটি করাতে হয়েছে। হাসপাতালের বাইরে ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় রোগীর অনেক কষ্ট ও ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে।’ সালমা আক্তার নামে এক রোগী বলেন, ‘হাসপাতালে কালার আল্ট্রাসনো মেশিনটি নষ্ট থাকায় সাদাকালো মেশিনে পরীক্ষা করাতে হয়েছে। এতে কি ভালো রিপোর্ট আসবে?’

রোগীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবু সাঈদ বণিক বার্তাকে জানান, বর্তমানে চিকিৎসার জন্য আধুনিক যেসব যন্ত্র প্রয়োজন এ হাসপাতালে নেই। পুরনো এক্স-রে ও কালার আল্ট্রাসনো মেশিন চালু থাকলেও অত্যাধুনিক মেশিন দুটি দীর্ঘদিন অকেজো। ফলে অত্যাধুনিক কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হলে এ হাসপাতালে করা যাচ্ছে না। এতে রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, মেশিন দুটি মেরামতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে এ কর্মকর্তার দাবি রোগীদের কোনো ভোগান্তিই পোহাতে হচ্ছে না। পুরনো দুটি মেশিন দিয়ে আগের চেয়ে ভালো সেবা পাচ্ছেন এ অঞ্চলের রোগীরা!