গাজীপুরের শ্রীপুরে বাঘের বাজার এলাকায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। ১ হাজার ৪৯৩ দশমিক ৯৩ হেক্টর এলাকাজুড়ে এ সাফারি পার্কের অবস্থান। দক্ষিণ এশীয় মডেল, বিশেষ করে থাইল্যান্ডের সাফারি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ পার্ক স্থাপন করা হয়। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার বালি সাফারি পার্কেরও কিছু ধারণা পার্কটিতে সন্নিবেশিত হয়েছে। তবে এতসব আয়োজনের ভিড়ে বন্যপ্রাণী দেখভালের জন্য যথাযথ ব্যবস্থাই গড়ে তোলা হয়নি। সম্প্রতি ১১টি জেব্রা, একটি সিংহী ও বাঘ মারা যাওয়ার ঘটনায় পার্কটির অব্যবস্থাপনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এসব ঘটনা তদন্তে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, দপ্তর বদল করা হয়েছে একাধিক কর্মকর্তারও।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। আলোচনায় উঠে আসে, সাফারি পার্কে বিদেশী বন্যপ্রাণী পরিচর্যার অভিজ্ঞতা না থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। সংকট কাটিয়ে উঠতে পার্শ্ববর্তী যেসব দেশে সাফারি পার্ক রয়েছে, তাদের সঙ্গে বিশদ অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য বলা হয়। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের পশুগুলো যেন বিদেশী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা যথাযথ চিকিৎসাসেবা পায়, তা নিশ্চিত করতেও সুপারিশ করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, বিদেশী বন্যপ্রাণী পরিচর্যার বিষয়ে জ্ঞান না থাকার কারণে সাফারি পার্কে বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এজন্য সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে পার্শ্ববর্তী যেসব দেশে সাফারি পার্ক রয়েছে, তাদের সঙ্গে পার্ক পরিচালনার বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য চুক্তি করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বন্যপ্রাণীর স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে নজরদারির মধ্যে রাখার জন্য সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
সাফারি পার্কের প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, কমিটি জানিয়েছে, বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিষয়টির কাজ করতে একটু সময় লাগবে। সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে সার্বিক বিষয়ে তদারক করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২ জানুয়ারি থেকে সাফারি পার্কে একের পর এক জেব্রার মৃত্যু হতে থাকে। সর্বশেষ ২৯ জানুয়ারি সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে দুটি জেব্রার মৃত্যু হয়। ১২ জানুয়ারি একটি বাঘ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। খবরটি দীর্ঘদিন গোপন রেখেছিল কর্তৃপক্ষ। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পার্কটিতে একটি সিংহীর মৃত্যু হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাফারি পার্কে বিভিন্ন দেশ থেকে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু এ দেশের আবহাওয়ায় সেসব বিদেশী প্রাণী লালন-পালনে যে সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন সেগুলো গড়ে তোলা হয়নি। আবার সাফারি পার্ক পরিচালনায় দক্ষ জনবলও নেই।
সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী মৃত্যুর ঘটনায় কাজ করছে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ও। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রাণীর মৃত্যুর পেছনে সংশ্লিষ্ট কারো ত্রুটি বা অবহেলা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে মানুষের মতো অন্যান্য প্রাণীও নতুন নতুন রোগে সংক্রমিত হচ্ছে, মারা যাচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে রোগ সংক্রমণের বিষয়টি উঠে এসেছে। একাধিক গবেষণাগারে পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সংক্রমণে এসব প্রাণী মারা গেছে। যেসব রোগে প্রাণীগুলোর মৃত্যু হয়েছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বেঁচে থাকা প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।










