রেলের সেবা বিস্তৃত করতে বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল সরকার। এজন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহযোগিতায় ৩ হাজার ৬০২ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়। মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০১৮ জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। তবে বাস্তবায়ন অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। বাড়তি মেয়াদ শেষ হতে চললেও গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১৬ শতাংশ। তাই এর মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিংস্টক উন্নয়ন (রোলিংস্টক সংগ্রহ)’ শীর্ষক প্রকল্পের ওপর প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সভার কার্যপত্র অনুযায়ী এডিবি ও সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে মোট ৩ হাজার ৬০২ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ২৬ জুন একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। বাস্তবায়নকাজে গতি না থাকায় রেলপথ মন্ত্রণালয় এর মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১৪ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ১৬ শতাংশ। প্রকল্প বাস্তবায়নে এত ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে পিএসসি।

সভায় জানানো হয়, এ প্রকল্পের আওতায় রোলিংস্টক ক্রয়ের জন্য পাঁচটি প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্যাকেজগুলো হচ্ছে ৪০টি ব্রড গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ, ৭৫টি মিটার গেজ লাগেজভ্যান সংগ্রহ, ৫০টি ব্রড গেজ লাগেজভ্যান সংগ্রহ, ৫৮০টি মিটার গেজ ওয়াগন সংগ্রহ এবং ৪২০টি ব্রড গেজ ওয়াগন সংগ্রহ।

প্রথম প্যাকেজের আওতায় ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি ৪০টি ব্রড গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ ক্রয়ের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি লটে আটটি করে পাঁচটি লটে ৪০টি ব্রড গেজ লোকোমোটিভ পাওয়া যাবে। প্রথম লটে আটটি লোকোমোটিভ গত বছর ২২ ফেব্রুয়ারিতে দেশে পৌঁছানোর পর কমিশনিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় লটের আটটি লোকোমোটিভ গত বছরের ৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং ১২ ডিসেম্বর খালাসের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ২৪টি লোকোমোটিভ সরবরাহ ও ২০২৩ সালের এপ্রিলের মধ্যে কমিশনিং সম্পন্ন হবে বলে সরবরাহ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে।

দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় ৭৫টি মিটার লাগেজ সংগ্রহ ও তৃতীয় প্যাকেজের আওতায় ৫০টি ব্রড গেজ লাগেজভ্যান সংগ্রহের জন্য ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট এবং ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি চুক্তি হয়।  এছাড়া চতুর্থ প্যাকেজের আওতায় ৩৮৬টি মিটার গেজ বগি কাভার্ড ওয়াগন, ১৭৪টি মিটার গেজ বগি ওপেন ওয়াগন এবং ২০টি মিটার গেজ বগি ব্রেক সংগ্রহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। পঞ্চম প্যাকেজের আওতায় ২৯০টি ব্রড গেজ বগি কাভার্ড ওয়াগন ১১৬টি ব্রড গেজ বগি ওপেন ওয়াগন এবং ১৪টি ব্রড গেজ বগি ব্রেক ভ্যাট সংগ্রহে গত ৬ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, প্রকল্পটি মূলত মালামাল ক্রয়সংক্রান্ত, তাই অগ্রগতি এখন কম মনে হচ্ছে। কিন্তু মালামাল যখন পৌঁছে যাবে তখন একসঙ্গে ৮০ শতাংশ অগ্রগতি দেখাবে। কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিশ্বব্যাপী লকডাউন-নিষেধাজ্ঞা আরোপ থাকায় চুক্তির পণ্য উৎপাদন ও কাঁচামালের সরবরাহসহ অন্যান্য স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।