কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া চাকরি বা কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। শিক্ষার্থীরা কোন বিষয়ে কর্মমুখী শিক্ষা নিতে চায়, তা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী সুযোগ তৈরি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের চকরিয়া সরকারি কলেজ মিলনায়তনে চকরিয়া উপজেলার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কলেজগুলোতে ভাষা ক্লাব গঠনের ঘোষণা দেন উপাচার্য। অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার অনুযায়ী নির্ধারণ করে পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় দ্রুত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মাত্র ২৭ কর্মদিবসের মধ্যে ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। এর আগে অনার্স চূড়ান্ত ও ডিগ্রি পরীক্ষার ফলও স্বল্প সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে ৩৫ বছরের পুরোনো পাঠ্যক্রম সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, কলেজগুলোর গ্রন্থাগারে মানসম্মত মূল বইয়ের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে ৪ হাজার কোর্সের পাঠ্যক্রম পরিমার্জন ও নতুন পাঠ্যবই প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক কোর্সের পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করা হয়েছে এবং বাকিগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

চকরিয়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুসরাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন।

সভায় চকরিয়া উপজেলার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।