কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়ায় ডিজিটাল সার্ভিস অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং সেন্টার (ডি-সেট) নির্মাণ করেছে সরকার। ফুলবাড়ী উপজেলার কালিরহাট বাজারের পাশে ২০২১ সালের মার্চে সেন্টারটি উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এর পর থেকেই তালাবদ্ধ রয়েছে সেন্টারটি। ফলে দীর্ঘদিন অবহেলিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ডিজিটাল সেন্টারটি কোনো কাজে আসছে না বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দাসিয়ারছড়ার তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ডিজিটাল সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়। ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ডিজিটাল সার্ভিস এমপ্লয়মেন্ট সেন্টারটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে কিছু সমস্যা আছে। প্রশিক্ষকসহ অন্য জনবল নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে। এটি চালু হলে সেখানকার বেকার সমস্যা সমাধান হবে।’

ছিটমহল বিনিময়ের সাবেক নেতা গোলাম মোস্তফা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলনের পর মুক্ত হয়ে পাকা সড়ক, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা সুবিধা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু সবই পেয়েছি। কিন্তু ছিটমহল বিনিময়ের আট বছরে নিজেদের অর্থনৈতিক কোনো উন্নয়ন করতে পারিনি। একমাত্র ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টারটি ঘিরে আমরা আশা করেছিলাম, ভালো কিছু হবে। ভেবেছিলাম, আমাদের সন্তানরা এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে রোজগার করতে পারবে। কিন্তু উদ্বোধনের পর দুই বছর ধরে এটি বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার এটি চালুর কথা জানানো হলেও তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’

দাসিয়ারছড়ার বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। তিন ছেলেই কিছুটা লেখাপড়া করেছে। এখন তারা কৃষিকাজ করছে। সেন্টারটি চালু হলে এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে কিছু করে খেতে পারবে। এখন আমরা সেন্টারটি চালুর অপেক্ষায় আছি।’