পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামাড়া ইউনিয়নের বেংহারিপাড়া গ্রামে ভুট্টা তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কলেজপড়ুয়া এক শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ও ধাক্কামাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন— বেংহারিপাড়া গ্রামের সফিজ উদ্দিনের ছেলে ভ্যানচালক রব্বানী (৩৫), লিয়াকত আলীর ছেলে মো. শাহিন (৩৮) ও সফিজুল ইসলামের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী জামিদুল ইসলাম (২১)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ ও নেসকোর দুটি বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের তার পাশাপাশি ছিল। বুধবার সকাল ৬টার দিকে পল্লী বিদ্যুতের একটি তার ছুটে গিয়ে নেসকোর লাইনের ওপর পড়লে বিকট শব্দ হয়। এরপর পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলে স্থানীয়রা তা জানতে না পেরে খুঁটির নিচে কাজ করতে যান। এ সময় চারজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
ঘটনাস্থলেই মারা যান জামিদুল ইসলাম। গুরুতর অবস্থায় শাহিন, রব্বানী ও জয় ইসলামকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহিন ও রব্বানীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত জয় ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা ও নিহতদের পরিবার দাবি করেছেন, পল্লী বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনাই এই ঘটনার জন্য দায়ী। এ সময় তারা দায়ীদের বিচার দাবি করেন। ধাক্কামাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল বলেন, নেসকো ও পল্লী বিদ্যুতের গাফিলতির কারণেই তিনটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।
তবে পঞ্চগড় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মাজহারুল আলম বলেন, এই ঘটনার জন্য আমরা দায়ী নই। কারণ সেখানে নেসকোর বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছিল। আমরা সময়মতো বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলাম।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান বলেন, এ ঘটনায় তিনটি অপমৃত্যু মামলা হবে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করা হবে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল কাশেম বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে শাহিন ও রব্বানী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান।










