পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে আগেই ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে খাড়াভাবে ১৮টি পাহাড় কেটে বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডের ছয় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এজন্য কয়েক দফা জরিমানাও করা হয়েছে সিডিএকে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে আরো দুই লাখ ঘনফুট পাহাড় কাটার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।
তবে সিডিএর এ প্রস্তাবে এখনো সায় দেয়নি পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশবিদরা বলছেন, প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে পাহাড়শূন্য অবস্থায় পরিণত হবে এলাকাটি। এতে করে দখলদারদের দমন করা আরো দুরূহ হয়ে পড়বে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মাসের শুরুতে সিডিএ পরিবেশ অধিদপ্তরে বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড প্রকল্পের সড়কের দুই পাশের পাহাড় কাটার জন্য নতুন প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে লিংক রোড রক্ষায় নতুন করে দুই লাখ ঘনফুট পাহাড় কেটে সড়ক রক্ষার কথা বলা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, লিংক রোডের দুই পাশের পাহাড় কর্তনের জন্য সিডিএ গত দুই দফায় যে প্রস্তাব দিয়েছে সেটার অনুমোদন যদি পরিবেশ অধিদপ্তর দেয়, তাহলে সড়কের দুই পাশের পাহাড়ের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। তাই সিডিএর এ প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পাহাড় কাটার শুরু থেকেই পরিবেশ অধিদপ্তর এ সড়কের পাহাড় কাটার বিরোধিতা করে। এমনকি পাহাড় ভেঙে ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এমনটা আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল, যেটা এখন প্রতীয়মান।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী বলেন, লিংক রোডের দুই পাশের পাহাড় খাড়াভাবে কাটার কারণে সেটা এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। খাড়াভাবে কাটা পাহাড়গুলো ভেঙে সড়কের ওপরে পড়ছে। এতে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেজন্য সিডিএর সঙ্গে আমরা আলোচনা করে একটি স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছি। কিন্তু সিডিএ দুই দফায় যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেভাবে কাজ করলে পাহাড়শূন্য এলাকায় পরিণত হবে।
তিনি আরো জানান, যৌথ সার্ভের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। এককভাবে সিডিএর প্রস্তাব মেনে কাজ করা সম্ভব নয়। সেজন্য সিডিএর ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে পাহাড় কাটার অনুমোদন দেবে না পরিবেশ অধিদপ্তর।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে পাহাড় কাটার জন্য প্রথমবার একটি প্রস্তাব পরিবেশ অধিদপ্তরকে দেয় সিডিএ। তবে সেই প্রস্তাব পরিবেশ ও পাহাড় রক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সেটি মানা সম্ভব না বলে জানিয়ে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। সিডিএকে নতুন করে সংশোধিত প্রস্তাব দিতে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর। সেজন্য নতুন প্রস্তাবে চলতি মাসের শুরুতে আবারো দুই লাখ ঘনফুট পাহাড় কেটে সংস্কারের নতুন প্রস্তাব দেয় সিডিএ।
এ প্রসঙ্গে বায়েজিদ লিংক রোড প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব দাশ বণিক বার্তাকে বলেন, সড়কের দুই পাশে পাহাড় ভেঙে সড়কে পড়ার কারণে পাহাড়গুলোর সংস্কার করা প্রয়োজন। সেজন্য চলতি মাসের শুরুতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে আমরা আমাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। সেখানে নতুন করে দুই লাখ ঘনফুট পাহাড়ের মাটি কাটার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে পাহাড়গুলো খাড়াভাবে আছে। তার মধ্যে যে পাহাড়গুলো ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলোকে ওয়ান টু ওয়ান বা ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে কাটলে রাস্তা এবং পাহাড় দুটোই রক্ষা পাবে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।










