লক্ষ্মীপুরে পুলিশের দুই মামলায় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ ১৩ জনকে আগাম জামিন দিয়েছেন উচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম এ জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবউদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমানসহ ১৩ জন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান বলেন, লক্ষ্মীপুরে পুলিশের দায়েরকৃত দুটি মিথ্যা মামলার মধ্যে এক মামলায় ১২ জন অপর মামলায় ৭ জনের জামিন মঞ্জুর হয়। এর মধ্যে দুটি মামলাতেই তিনিসহ ৬ নেতার জামিন মঞ্জুর হয়। এদিকে জামিনে মুক্ত হয়ে মুঠোফোনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বণিক বার্তাকে বলেন, মিথ্যা দিয়ে সত্যকে চাপিয়ে রাখা যায় না। আমরা জামিনে মুক্ত হয়েছি। আগামী রোববার বাকী নেতাকর্মীদেরও জামিনের আবেদন করা হবে।

এর আগে গত বুধবার (১৯জুলাই) রাতে সদর থানা পুলিশের এস আই আনিছুর রহমান বাদী হয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে প্রধান আসামিসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ১ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়। পৃথক আরেকটি মামলায় সদর থানার এস আই মোজাম্মেল হোসেন বাদী হয়ে পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশকে আহত করার ঘটনায় বিএনপির একই নেতাকে প্রধান আসামি করে ২৫ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা আরো ১ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে।

ওই রাতে কৃষক দল কর্মী সজিব হত্যার ঘটনায় নিহত সজিবের ভাই মো. সুজন হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা একাধিক আসামি করে এবং কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরুল আমিন রাজু’র লক্ষ্মীপুর শহরের বাড়ি ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন। তবে এ দুই মামলায় কোন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবিতে লক্ষ্মীপুর শহরের গোডাউন রোডস্থ বশির ভিলা থেকে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নেতৃত্বে পদযাত্রা বের করেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।পদযাত্রাটি জেলা শহরের সামাদ মোড় সংলগ্ন কলেজ রোড এলাকায় পৌঁছালে প্রথম ধাপে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের কিছুসংখ্যক নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে সজীব নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিএনপির দাবি নিহত যুবক কৃষক দলের কর্মী।

অপরদিকে বিএনপির বিশাল পদযাত্রাটি শহরের রামগতি-লক্ষ্মীপুর সড়কের আধুনিক হাসপাতাল এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শতাধিক দলীয় নেতাকর্মীরা ঢাকা-রায়পুর হাইওয়ে সড়কে উঠতে চাইলে পুলিশ আবারও বাধা দেয়। এতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. সোহেল রানা, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোসলেহ উদ্দিন, শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত জেলা পুলিশের ৩০ জন সদস্য আহত হন বলে দাবি পুলিশের। এছাড়াও পুলিশের টিয়ারশেল ও শটগানের গুলিতে বিএনপির ৭০ থেকে ৮০জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনার পর পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও পুলিশ।