রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নাব্য ফিরিয়ে আনা ও স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। রাজধানীর পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নদীগুলোকে বিবেচনা করে নদী ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর গুলশানে আলোকিতে আজ টিম ইউরোপীয় ইউনিয়ন আয়োজিত ‘বাংলাদেশের নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ এবং রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদী ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণ ও দখলমুক্ত রাখা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। নদীতে শিল্পবর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণ কোনো একক মন্ত্রণালয় বা সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয়। পানিসম্পদ, পরিবেশ, নৌপরিবহন, স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন, শিল্প, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী জনগণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জলাবদ্ধতা, পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা ও জনদুর্ভোগ বাড়ে। তাই নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল ও জলাধারগুলোও সংরক্ষণ করতে হবে। নদী ও খালের সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ সচল রাখার উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী নদ-নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ বাংলাদেশের পার্লামেন্টের মহাপরিচালক মাহবুবা রহমান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিনিস্টার কাউন্সিলর ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মিখাল ক্রেইজা, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরেশার্লে, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভান বোমেল প্রমুখ।