অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও গ্যাস চুরি রোধে দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। গতকাল সোমবার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে শতাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, পাইপ অপসারণ ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তিতাস গ্যাসের জোবিঅ-টঙ্গী অঞ্চলের আওতাধীন পাগাড়, টঙ্গী ও গাজীপুর এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বকেয়া, অনুমোদনের অতিরিক্ত চুলা এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগে মোট ৩৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় আনুমানিক ২০০ ফুট অবৈধ পাইপ অপসারণ করা হয়।

এদিন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মনিজা খাতুনের নেতৃত্বে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে একটি অবৈধ তার কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি ১০টি সার্ভিস লাইন ও ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। কারখানাটির বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং মামলা করা হয়েছে। এতে মাসিক প্রায় ১২ লাখ ৮২ হাজার ৬৪৪ টাকার গ্যাস চুরি রোধ সম্ভব হয়েছে বলে জানায় তিতাস।

অন্যদিকে মেট্রো ঢাকা বিক্রয় বিভাগ-১ এর আওতাধীন শ্যামপুর এলাকায় ভিজিল্যান্স বিভাগের অভিযানে বিসমিল্লাহ মোল্ডিং লিমিটেডে অবৈধভাবে বিতরণ লাইন থেকে গ্যাস সংযোগ নেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

গাজীপুরের লিবাস গেট রোড, আড়াবাড়ী, মৌচাক ও কালিয়াকৈর এলাকায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ আলী আদনানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ১৫৭টি সিঙ্গেল ও ৪৪টি ডাবল চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট পাইপ অপসারণ, একটি রাইজার কিল এবং একটি অবৈধ রেগুলেটর জব্দ করা হয়।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মল্লিকপাড়া, মৃধাকান্দি, প্রতাপের চর ও ঝাউচর এলাকায় ১৩ জায়গায় অভিযান চালানো হয়। এতে তিনটি চুন কারখানার ছয়টি ভাট্টি ও একটি ঢালাই কারখানার একটি ভাট্টির অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একটি ঢালাই কারখানার মালিকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানে প্রায় ১১০ ফুট এমএস পাইপ জব্দ করা হয়। এতে দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকার গ্যাস চুরি রোধ সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর ও পঞ্চসার এলাকায় পরিচালিত আরেক অভিযানে একটি মাদ্রাসায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে স্টার বার্নার ব্যবহার করে গ্যাস সংযোগ নেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া ছাদে দুটি ওয়াটার হিটারেও অবৈধ সংযোগ ছিল। পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও লাইন কিলিং করা হয়। একই অভিযানে কয়েকটি আবাসিক সংযোগেও অনুমোদনের অতিরিক্ত চুলা ব্যবহারের অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়া হয়। অভিযানকালে বিভিন্ন পাইপ, রেগুলেটর, বার্নার ও ওয়াটার হিটার জব্দ করা হয়েছে।