নারায়ণগঞ্জে হকার জুবায়ের হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ চতুর্থ আদালতে বিচারক মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ইকবাল ওরফে ডাক্তার, স্বপন, সায়মন ও সানি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিতরা হলেন রাসেল ও হাসান। এ মামলায় খালাস পেয়েছেন হকার লীগ নেতা আসাদ ও মহসিন। নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. কাইউম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের সাধু পৌলের গির্জার সামনে ফুটপাতে সাদেকের জুতার দোকানে চাকরি করতেন ফতুল্লার উত্তর মাসদাইরের আমজাদ হোসেনের ছেলে জুবায়ের। ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের বলাকা পেট্রল পাম্পের সামনে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে জুবায়েরকে ছুরিকাঘাত ও মারধর করে স্বপন, ইকবালসহ অন্য হকাররা পালিয়ে যায়। পরে জুবায়েরকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় তার মা মুক্তা বাদী হয়ে ইকবালসহ আটজনের নামোল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শেষে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ জানান, এ মামলায় বাদী, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকসহ ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরে উভয় পক্ষে আইনজীবীদের জেরা ও যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার আদালত রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে পাঁচ আসামি উপস্থিত ছিলেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসান পলাতক রয়েছেন।

রায়ে সস্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহতের মা ও মামলার বাদী মুক্তি বেগম ও বাবা আমজাদ হোসেন। মুক্তি বেগম দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।