একটা সময় নেত্রকোনার হাওর এলাকায় শত শত হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। কৃষি বিভাগের প্রচারণা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, যান্ত্রিকীকরণ ও সরকারি প্রণোদনার ফলে পতিত জমিতে সবজি চাষ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৯৫৫ হেক্টর অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় এসেছে। জেলার কলমাকান্দা, মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলায় হাওরের পতিত এসব জমিতে মিষ্টিকুমড়া, শশা, টমেটো, বাদামসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৭১৯ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। উৎপাদিত ২১ হাজার ৫৭০ টন কুমড়া থেকে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা আয় হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষক জানান, কীটনাশকমুক্ত মিষ্টি কুমড়া স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিন সড়ক ও নৌপথে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা মিষ্টি কুমড়া ক্রয় করে সড়ক ও নৌপথে পরিবহন করে ঢাকা, বগুড়া, রাজশাহী, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন।

খালিয়াজুরী জগন্নাথপুর গ্রামের মিষ্টি কুমড়া চাষী জামাল মিয়া জানান, হাওরের পতিত জমিতে তিনি কয়েক বছর ধরে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করছেন। কার্তিক মাসে মিষ্টি কুমড়ার চারা রোপণ করা হয়। ফুল থেকে ফাল্গুন মাসে ফলন হয়। একেকটি মিষ্টি কুমড়া ৫-১০ কেজি ওজন হয়। খেতের কাছেই বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে নিয়ে যায় ১৮-২০ টাকা কেজি দরে।

মিষ্টিকুমড়া ক্রেতা মিরাজ আলী জানান, পাঁচ বছর ধরে খালিয়াজুরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিষ্টি কুমড়া ক্রয় করছেন তিনি। প্রথম দিকে তিনি প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা কেজি দরে কিনেছেন। পরে ২২ টাকা এবং বর্তমানে ২০ টাকা কেজি দরে এখান থেকে কিনে বগুড়া বিক্রি করছেন। লাভও ভালো পাচ্ছেন। এটি মূলত একটি নিরাপদ ব্যবসা। লোকসান হয় কম।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে বসতবাড়ির আশপাশের জমি এবং পতিত জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজির আবাদ করা হচ্ছে। পরামর্শ, প্রণোদনা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও প্রদর্শনী স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পতিত জমিতে ভালো সবজি উৎপাদিত হওয়ায় কৃষক দিন দিন আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে নেত্রকোনায় ২ হাজার ৯৫৫ হেক্টর পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।