আগামী ৭ জানুয়ারি সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে হাজির হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভোটটা নৌকায় দেয়ার অনুরোধ করে বলেছেন, ‘এ মার্কাই দেশের উন্নতির সোপান।’শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় বঙ্গবন্ধু কন্যার সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানাও। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি আওয়ামী লীগ সভাপতির সশরীরে তৃতীয় জনসভা। ২০ ডিসেম্বর সিলেটে প্রথম, ২৬ ডিসেম্বর রংপুরে দুটি পথসভা ও একটি জনসভায় অংশ নেন। এছাড়া বেশ কিছু জেলায় জনসভায় ভার্চুয়াল বক্তব্য রাখেন তিনি।
তরুণদের নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি তারুণ্যের শক্তিই বাংলাদেশের অগ্রগতি। নতুন ভোটার যারা নতুন ভোটারদের কাছে আমা র আহ্বান, যারা নতুন করে ভোট দিতে আসবেন তারা নিশ্চয়ই চাইবেন না আপনার ভোট ব্যর্থ হোক। কাজেই আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নৌকাকে জয়যুক্ত করবেন
বরিশালের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এই বিভাগের ২১টি আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর তার সরকারের আমলে এই অঞ্চলে উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে বলেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইলে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে। সেই সঙ্গে ভোট বর্জনকারী বিএনপি-জামায়াত ও সমমনাদের আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করেন।
বিএনপির বিষয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘এ দল হচ্ছে খুনি, সন্ত্রাসী, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি, মানি লন্ডারিং এবং যত প্রকার অপকর্ম, এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারী। তার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী (জামায়াত) দল। এরা নির্বাচন চায় না। বানচাল করতে চায়।
‘মার্কাটা কী?’ এই প্রশ্ন রেখে নিজেই জবাব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “নৌকা মার্কা। এই নৌকা হচ্ছে নুহ (আ.) এর নৌকা। এই নৌকা মহাপ্লাবন থেকে মানুষকে রক্ষা করেছিল, এই নৌকায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে, এই নৌকায় ভোট দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। নৌকায় ভোট দিলে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে।”
গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এই ধারা অব্যাহত আছে বলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। আমাদের ছেলে, মেয়েরা সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত হবে, আধুনিক বিজ্ঞান প্রযুক্তি শিখবে, দক্ষ জনশক্তি হবে। আমাদের সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্মার্ট হবে, আমাদের অর্থনীতি স্মার্ট হবে, সমাজ ব্যবস্থা স্মার্ট হবে।’
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরিশাল ১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ। জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত, উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি ও নৌকার প্রার্থী আমির হোসেন আমু এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও নৌকার প্রার্থী রাশেদ খান মেনন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ-ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, জেপি’র চেয়ারম্যান ও নৌকার প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, নৌকার প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মি আহমেদ, বরিশাল-৬ আসনের নৌকার প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ মল্লিক, ঝালকাঠি-১ আসনের নৌকার প্রার্থী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, অভিনেতা মীর সাব্বির, নাট্যাভিনেতা তারিন জাহান, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি আব্দুল মান্নান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজালুল হোসেন, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।










