দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছেই। শনিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ২৪৯ জন, যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে সারা দেশে হামের উপসর্গে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ২৮০ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ৭৬ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সময়ে হামের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৮। এ সময়ে রোগটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩৮৪ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ২ হাজার ২৬৮ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ জন। বর্তমানে দেশের হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসাধীন ৬ হাজার ১৬৪ জন।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানেও ডেঙ্গুর বাড়তি প্রকোপের চিত্র উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের ২৫ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৪ হাজার ৩২৮ জন। পুরো সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৭৭৪। অর্থাৎ মাস শেষ হওয়ার আগেই অক্টোবরে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সেপ্টেম্বরের মোট হিসাব ছাড়িয়েছে।

মৃত্যুর হিসাবেও অক্টোবরের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। চলতি মাসে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৩৯ জন। সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ১৪৮। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ১ হাজার ৩৩ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২৭ জন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০১ ও ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকাগুলোয় ৬০৫ জন ভর্তি হয়েছে। এছাড়া খুলনা বিভাগে ২৯৭, রাজশাহীতে ২২৪, চট্টগ্রামে ২১৭, বরিশালে ২১১, ময়মনসিংহে ১৫৫, রংপুরে ৮২ ও সিলেটে ৩০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। 

se

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, নিয়মিত মশক জরিপ এবং এলাকাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।’ 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকলে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনার আশপাশে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। এসব প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে জানিয়েছেন তারা। 

অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২১ হাজার ১৬৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৪০০ জনের শরীরে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০৪ জন। বাকি ১ হাজার ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৮৯ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ৬৯ জন।

এ সময়ে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের। তাদের একজন চট্টগ্রাম জেলার ও অন্যজন নোয়াখালীর। এছাড়া ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছে। তাদের মধ্যে ঢাকা জেলার একজন, ময়মনসিংহ জেলার একজন ও সুনামগঞ্জের একজন।