চলতি মৌসুমে লালমনিরহাটে ৩২ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। এরই মধ্যে ৭৫-৮০ শতাংশ ভুট্টা ঘরে তুলেছেন কৃষক। ফলন ভালো হলেও প্রত্যাশিত দাম মিলছে না বলে অভিযোগ চাষীদের। এক মাস আগেও প্রতি মণ ভুট্টা ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। ফড়িয়া ও কোম্পানির লোকজন জোগসাজশ করে দাম কমিয়েছে বলেও দাবি করেন কৃষক।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর লালমনিরহাটে ৩২ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। তবে চাষ হয়েছে ৩২ হাজার ৯১০ হেক্টরে। প্রতি হেক্টরে ১১ টন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও ১০ দশমিক ৭৮ টন উৎপাদিত হয়েছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ভুট্টার ফলন ভালো পেয়েছেন কৃষক। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। প্রতি মণ ভুট্টা ১ হাজার ৬০ থেকে ১ হাজার ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভুট্টাচাষী মোশাররফ হোসেন বুলবুল বলেন, ‘সার, বীজ, সেচ, পরিচর্যা, কীটনাশক, জমিচাষ ও শ্রমিক বাবদ খরচ হয়েছে প্রতি একরে ৭০-৮০ হাজার টাকা। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় মিটার পাস করে শুকিয়ে প্রতি একরে ১০৮-১২০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া গেছে। এক মাস আগেও প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দামে। এখন বাজারে ফড়িয়া ও কোম্পানির লোকজনের জোগসাজশে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। ফলন ভালো হলেও বেশি লাভ পাচ্ছেন না কৃষক।’
জানতে চাইলে পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল গাফফার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভুট্টা লালমনিরহাট জেলার একটি ব্র্যান্ডিং পণ্য। ভুট্টা ব্যবহারকারী বহুজাতিক কোম্পানির প্রসেসিং কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে দাম নিয়ে কৃষকের কোনো অভিযোগ থাকবে না, বরং তামাক ছেড়ে চাষীরাও ভুট্টা চাষে আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবেন। সরকারি নীতিমালা ছাড়া এ অঞ্চলে ভুট্টা প্রসেসিং কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের পদক্ষেপ প্রয়োজন রয়েছে।’
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সায়খুল আরিফিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলিত মৌসুমে ভুট্টার ভালো ফলন হয়েছে। জেলার প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ ভুট্টা কৃষক ঘরে তুলেছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই অবশিষ্ট ভুট্টা উত্তোলন করা হবে। বাজারে প্রতি মণ মিটার পাস (শুকনো) ভুট্টা ১ হাজার ৬০ থেকে ১ হাজার ১২০ টাকা পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। দাম আরো বাড়বে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কৃষকের হাতে টাকা না থাকায় খরচ সামলাতে ভুট্টা এখনই বিক্রি করে দিচ্ছেন। এজন্য দাম কিছুটা কম পাচ্ছেন।’
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, ‘এ জেলা থেকে যেকোনো ধরনের পণ্য রাজধানী ঢাকায় নিতে পরিবহন খরচ অনেক বেশি হয়। ফলে এ জেলায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিল্প মালিকদের আগ্রহ কম। এর পরও আমরা চেষ্টা করছি।’










