দেশের বাজারে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে বিদেশী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট। বৈধভাবে এসব সিগারেট আমদানিতে সর্বোচ্চ ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয়। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শর্তসাপেক্ষে সিগারেট আমদানির সুযোগ থাকলেও উচ্চ শুল্কের কারণে বৈধভাবে সিগারেট আমদানির নজির নেই। মূলত খুচরা বাজারে বিক্রি হওয়া এসব সিগারেট সমুদ্রবন্দরের বৈধ পথ ব্যবহার করে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন কায়দায় এনে ছাড় করে নিতে তত্পর থাকে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সর্বশেষ ফল আমদানিকারকের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আনা সাড়ে ৬ কোটি টাকা মূল্যের ২২ লাখ ১৯ হাজার শলাকা সিগারেটের একটি চালান আটকে দিয়েছে কাস্টমস কর্মকর্তারা। জব্দ করা সিগারেটের দাম ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা হলেও এতে শুল্ক-কর ৫ কোটি টাকার বেশি। চালানটিতে প্রকৃতপক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারে করে তাজা আপেল আমদানি হওয়ার কথা ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে। বন্দর থেকে খালাসের প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েক ধাপ পার হলেও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের পোর্ট কন্ট্রোল ইউনিটের (পিসিইউ) তত্পরতায় ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় আমদানিকারক। 

কাস্টমসের তথ্যমতে, চট্টগ্রামের স্টেশন রোডের ফলমন্ডি ঠিকানার প্রতিষ্ঠান মারহাবা ফ্রেশ ফ্রুটস পণ্যের চালানটির আমদানিকারক। আরব অমিরাত থেকে তাজা আপেল ঘোষণা দিয়ে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের কনটেইনারে পণ্য আমদানির প্রক্রিয়ায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জ শাখায় ৬ ডিসেম্বর ঋণপত্র ইস্যু করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর হতে চালানটি খালাস করতে আমদানিকারকের প্রতিনিধি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে চট্টগ্রামের পূর্ব মাদারবাড়ী রেলগেট ঠিকানার জিম এন্টারপ্রাইজ। বন্দর হতে পণ্য ছাড়িয়ে নেয়ার পদক্ষেপ হিসেবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে আগামপত্র দাখিল করা হয়েছে ২০ ডিসেম্বর। 

কনটেইনারে রাখা ১ হাজার ১২০টি আপেলের কার্টনে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে আপেলের নিচে ৭৫৪টি কার্টন থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশী সিগারেট উদ্ধার করে কাস্টমস। উদ্ধার হওয়া ২২ লাখ ১৯ হাজার শলাকার মধ্যে মন্ড ব্র্যান্ডের ৬ লাখ ৯১ হাজার শলাকা, ইজি ব্র্যান্ডের ১৪ লাখ ৮ হাজার শলাকা, ওরিস ব্র্যান্ডের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮০০ শলাকা সিগারেট জব্দ করেছে এআইআর শাখা। অবশ্য চালানটিতে ১৫ হাজার কেজি আপেলও এনেছেন আমদানিকারক।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন রিজভী বণিক বার্তাকে বলেন, সিগারেট শর্তসাপেক্ষে আমদানিযোগ্য। বন্দর দিয়ে যাতে ঘোষণাবহির্ভূত চালান খালাস না হয়, সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উচ্চ শুল্ক হওয়ায় এক্ষেত্রে আমদানিকারক আপেলের আড়ালে সিগারেট এনে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। যদিও কাস্টম হাউজের পোর্ট কন্ট্রোল ইউনিট আমদানিকারকের অপচেষ্টাটি ব্যর্থ করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।