এতে হৃদরোগে আক্রান্তরা সেবার বদলে গরমে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ওয়ার্ডের সিলিং ফ্যানগুলোর অবস্থাও নাজুক। অধিকাংশ ফ্যান প্রয়োজনের তুলনায় ধীরে ঘোরে। ফলে রোগীদের ভোগান্তি আরো বেড়েছে।

সরজমিনে রমেক হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় হৃদরোগ বিভাগের সাধারণ ওয়ার্ডের (৪ নং) ব্লক এফসি ২১, ৩ নংসহ অন্যান্য ব্লক ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেক বেডে রোগীরা নিজ উদ্যোগে টেবিল ফ্যান বসিয়ে গরম থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসিমা বেগম (৩৫) হৃদরোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানান, জেনারেল ওয়ার্ডে কোনো এসি নেই। এমনকি যে ফ্যানগুলো আছে এর অধিকাংশই খুব ধীরে ঘোরে। তাই গায়ে পর্যাপ্ত বাতাস লাগে না।

হৃদরোগে আক্রান্ত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আনোয়ারা বেগম জানান, সন্ধ্যার পর হাসপাতালের কক্ষগুলো থেকে গরমের ভাপ বের হতে থাকে।

৪ নং ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ সিনিয়র নার্স আঞ্জুমান আরা বলেন, ‘এখানে দীর্ঘদিন ধরে এসি নেই। শুনেছি, যে এসিগুলো স্থাপন করাছিল তাও ১২ বছর আগে খুলে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে রোগী আছে ১০০। তবে মাঝে মাঝে রোগীর সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়ে যায়। এ ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা ২৪।’

তবে হৃদরোগ বিভাগের ৩৬ নং ওয়ার্ডের পোস্ট সিসিইউ ১, পোস্ট সিসিইউ ২ ও ফিমেল ওয়ার্ডসহ প্রত্যেকটি কক্ষে শোভা পাচ্ছে তিন-চারটি করে এসি। তবে প্রতিটি যন্ত্রই বিকল হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন থেকে।

এ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন অভিযোগ করেন, ওয়ার্ডটিতে স্থাপন করা প্রতিটি এসিই বিকল। শুধু তা-ই নয়, সিলিং ফ্যানগুলোও ধীরে ধীরে ঘোরে। এতে গরমে রোগীদের হাঁসফাঁস অবস্থা। কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাসিন্দা মর্জিনা বেগমও একই অভিযোগ করেন।

রংপুর গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেনারেল ওয়ার্ডে কোনো এসি নেই। তবে পেয়িং বেড (পোস্ট সিসিইউ ১, পোস্ট সিসিইউ ২ এবং ফিমেল ওয়ার্ডে) এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এসিগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। তবে সিভিয়ার হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের রাখার জায়গার এসি সচল আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর গণপূর্ত বিভাগের এক প্রকৌশলী জানান, পেয়িং বেডের এসিগুলো গণপূর্ত থেকে স্থাপন করা হয়নি। তারা নিজেরাই স্থাপন করেছে। ফ্যান ধীরে ঘোরার বিষয়টি তারা অবগত। মাঝে মাঝে সেগুলো সংস্কার করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। গত বছর ১০০টি নতুন ফ্যান লাগানো হয়েছে। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) অপারেশন থিয়েটারের এসি সংস্কার করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে হৃদরোগ বিভাগের এসি সংস্কারের অনুমোদন চাওয়া হবে।

এ ব্যাপারে রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হৃদরোগ বিভাগে সিভিয়ার রোগীদের যেখানে রাখা হয় সেখানকার এসি সচল আছে। অবশ্য গণপূর্ত বিভাগ থেকে এরই মধ্যে অপারেশন থিয়েটারের এসি সংস্কার করা হয়েছে। তবে হৃদরোগ বিভাগে অন্য বিকল এসি ঠিক করার জন্য গণপূর্ত বিভাগে চাহিদা দেয়া হয়েছে। আশা করছি এগুলো দ্রুত সচল হবে।’