পঞ্চগড় বাজারের চালহাটিতে আব্দুস সাত্তার নামে এক ব্যবসায়ীর গুদামে ২০ টন সরকারি চাল পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পুলিশ গুদামটি ঘিরে রাখে। ঘণ্টাখানেক পরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান শেখ, পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা, চেম্বারের ট্রেজারার আব্দুল সামাদ পুলক ও পঞ্চগড় সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আরেফিন সেখানে আসেন। তবে তারা ওই ব্যবসায়ীর দেয়া কিছু কাগজপত্র দেখে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

আব্দুস সাত্তার জানান, নাটোরের গুরুদাসপুরের গৌতম ট্রেডার্স থেকে ২০ টন চাল কিনেছেন তিনি। চালগুলো টিআর কাবিখার চাল বলেও জানান। তার গুদামে খাদ্য বিভাগের লোগো ও লেখা সংবলিত প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি করে ৬৬৭টি বস্তা রয়েছে। এভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসা করছেন। তার সব কাগজপত্র ঠিক আছে। তাই খাদ্য বিভাগ ও পুলিশ কর্মকর্তারা কাগজপত্র যাচাই করে তাকে চাল বিক্রির অনুমতি দিয়ে চলে গেছে।

তবে চালগুলোর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, রাজশাহীর বাগমারা থানার সরকারি চাল নাটোরের গৌতম ট্রেডার্স থেকে ক্রয় করেন সাত্তার। তবে নাটোরের গৌতম ট্রেডার্সের মালিকের সঙ্গে সেলফোনে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আরেফিন বলেন, ‘চালগুলো টিআর, জিআর ও কাবিখার। পুলিশ বিষয়টি দেখবে।’

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, ‘খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা কাগজপত্র যাচাই করে দেখেছেন। চালগুলো নাটোর থেকে কেনা হয়েছে। পরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ আমরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছি।’

পঞ্চগড় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল হক খন্দকার বলেন, ‘খাদ্যগুদাম থেকে চাল বেরিয়ে গেলে আমাদের আর কোনো দায়দায়িত্ব নেই। কোনো গুদামে সরকারি বস্তায় চাল পাওয়া গেলেও আমাদের দেখার কোনো বিষয় নেই।’