বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর পর এবার সঞ্চালন চার্জ বাড়াতে চায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। সংস্থাটি এরই মধ্যে তিন ধরনের ভোল্টেজ লেভেলে সঞ্চালন (হুইলিং) চার্জ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) প্রস্তাব দাখিল করেছে। প্রস্তাব অনুসারে, সংস্থাটি বিদ্যমান সঞ্চালন চার্জের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি প্রস্তাব করেছে।

বিইআরসি এ প্রস্তাবের ওপর বিতরণ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ৮ ও ৯ জানুয়ারি গণশুনানি করবে। কমিশনে পাঠানো পিজিসিবির চিঠি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটি তিন ধরনের ভোল্টেজ লেভেলের চার্জ বাড়াতে চায়। এর মধ্যে ২৩০, ১৩২ ও ৩৩ কেভি রয়েছে। পিজিসিবি সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাবে জানিয়েছে, দক্ষ নিরবচ্ছিন্ন সঞ্চালন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণে এ চার্জ বাড়ানো প্রয়োজন।

বিদ্যমান ট্যারিফ অনুযায়ী, পিজিসিবি ২৩০ কেভি লেভেলের ভোল্টেজের জন্য চার্জ পায় প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা শূন্য দশমিক ২৮৫৭ টাকা, ১৩২ কেভির জন্য শূন্য দশমিক ২৮৮৬ টাকা ও ৩৩ কেভি লেভেলের জন্য শূন্য দশমিক ২৯৫৪ টাকা।

পিজিসিবি বিদ্যমান হুইলিং চার্জ বাড়িয়ে ২৩০ কেভির জন্য শূন্য দশমিক ৬৩১১ টাকা, ১৩২ কেভির জন্য শূন্য দশমিক ৬৩৭৫ টাকা ও ৩৩ কেভির জন্য শূন্য দশমিক ৬৫০৩ টাকা প্রস্তাব করেছে। নতুন বছরের ১ ফেব্রুয়ারি বিল মাসে পিজিসিবি নতুন সঞ্চালন চার্জ বিইআরসির কাছে বাস্তবায়ন চেয়েছে।

বিইআরসি সদস্য (বিদ্যুৎ) বজলুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, সঞ্চালন চার্জ বাড়াতে কমিশনে পিজিসিবি মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি তারাও এ প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তাদের প্রস্তাবের বিষয়টি নিয়েও গণশুনানি হবে।

দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালনে রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিসেবে এককভাবে কাজ করছে পিজিসিবি। সংস্থাটি সারা দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর সাব স্টেশনে পৌঁছে দেয়ার কাজ করছে, একই সঙ্গে দেশের সঞ্চালন লাইন নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত।

২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ পিজিসিবির সঞ্চালন চার্জ পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এরপর গত তিন বছর পিজিসিবির চার্জ বাড়ানো হয়নি। সঞ্চালন চার্জ বাড়াতে পিজিসিবির যৌক্তিকতা হলো সঞ্চালন চার্জ বাড়ানো হলে পিজিসিবির আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। সরকার ও দাতা সংস্থাগুলোর ঋণের সুদ ও কিস্তির হার যথাসময়ে পরিশোধ করবে সংস্থাটি।

সঞ্চালন চার্জ বাড়াতে চাইলেও পিজিসিবি গত তিন অর্থবছরে সঞ্চালন লস খুব বেশি কমাতে পারেনি। গত তিন অর্থবছরে পিজিসিবি যে পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করেছে এবং যে পরিমাণ সরবরাহ করেছে সেখানে সঞ্চালন লসের চিত্র তুলে ধরেছে। বিইআরসিতে জমা দেয়া পিজিসিবির সঞ্চালন লসের চিত্র থেকে দেখা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পিজিসিবির সঞ্চালন লস ছিল ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ৩ দশমিক শূন্য ৫ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ গত তিন অর্থবছরে পিজিসিবির সঞ্চালন লসে খুব বেশি তারতম্য হয়নি।

সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর বিষয়টি জানতে বণিক বার্তার পক্ষ থেকে পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গোলাম কিবরিয়ার সেলফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

গত ২১ নভেম্বর পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ওই ঘোষণায় পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ১৭ থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ২০ পয়সা করা হয়।

এ ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ কোম্পানিগুলো বিইআরসিতে খুচরা পর্যায়ে গড়ে ২০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠায়। এ প্রস্তাবের ওপর জানুয়ারির  দ্বিতীয় সপ্তাহে গণশুনানির কথা রয়েছে কমিশনের।

জ্বালানিসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম বাড়লে সেটি নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে জনসাধারণের ওপর। এরপর সঞ্চালন কোম্পানির আরোপিত নতুন চার্জ বিদ্যুতের দামে আরেক দফা চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে সঞ্চালন চার্জ বাড়লে বিতরণ কোম্পানিগুলো এ টাকা তুলতে গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সেটি যুক্ত করবে।