কয়েক দিনের গরমে ঝালকাঠিতে বাড়ছে জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ। এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। কয়েক দিন ধরে ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালে রোগীর চাপও বেড়েছে। শয্যার বিপরীতে দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ৮০০-১ হাজার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে হাসপতালে। গত তিনদিনে জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ৪০ জন ভর্তি ছিল।

এদিকে প্রয়োজনীয় মেডিকেল অফিসার ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন শিশুবিশেষজ্ঞ না থাকায় সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। এছাড়া চক্ষুবিশেষজ্ঞের পদটিও দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে রয়েছে ওষুধ সংকট। এছাড়া প্যাথলজিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। ফলে এখানে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব হয় না। অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করাতে হয় রোগীকে। ছয় মাস ধরে হাসপাতালটির এক্স-রে মেশিনটিও বিকল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সেটিকে সচল করার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা।

হাসপাতালে ভর্তি কাজেম আলী হাওলাদার বলেন, ‘গরমে মানুষ দিশেহারা। ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। মাঝে মাঝে ডাক্তার আসে, আবার আসে না। এ অবস্থার মধ্যে চলছে। এখানকার সেবা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।’

এদিকে ২৫০ শয্যার জন্য নয় তলার একটি ভবন নির্মাণ হলেও জনবল কাঠামো অনুমোদন না হওয়ায় চালু হয়নি ২৫০ শয্যার কার্যক্রম। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে সব ধরনের সেবা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন সুমন দেবনাথ বলেন, ‘ঝালকাঠির মানুষের চিকিৎসার একমাত্র কেন্দ্র সদর হাসপাতাল। অথচ এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন বিকল রয়েছে। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। এছাড়া চিকিৎসক সংকট রয়েছে।’

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শামীম আহমেদ বলেন, ‘হাসপাতালে যে সমস্যা রয়েছে শিগগিরই সামাধান করা হবে। এক্স-রে মেশিনও দ্রুত চালু করা হবে।’