লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের গাটিয়ারভিটা ও একই উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ঝালাঙ্গী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশী নাগরিক অভিযোগে নারী-শিশুসহ ২০জনকে ‘পুশ-ইন’ করেছে ভারতীয় কোচবিহার-৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএসএফ সদস্যরা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভারতীয় বিএসএফের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া নারী-শিশুসহ ২০ জনই পাটগ্রাম থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

রংপুর তিস্তা-২ ব্যাটালিয়ন ও পাটগ্রাম থানা পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশী নাগরিক দাবিদার ‘পুশ-ইন’ হয়ে আটকৃতরা হলেন— নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার গজিরহাট এলাকার সজিব মিয়ার স্ত্রী সীমা খাতুন (২৮), একই এলাকার সজিব মিয়ার মেয়ে আখি বেগম (৪), খায়রুল ইসলামের স্ত্রী আফসানা খাতুন (২৫), খায়রুল ইসলামের ছেলে হামজা মিয়া (৬), উজ্জ্বল শেখে স্ত্রী চায়না খাতুন (২৩), উজ্জ¦ল শেখের মেয়ে মরিয়ম খাতুন (৭) ও তাইবা খাতুন (১), একই জেলার লোহাগাড়া তেরোখাদা এলাকার জাহিদ হোসেনের স্ত্রী রুমা আক্তার (৩৫), বাটপাড়া এলাকার কামাল শেখের ছেলে মুরাদ শেখ (২৪), একই এলাকার মুরাদ শেখের স্ত্রী রিতু বেগম (২০), মুরাদ শেখের মেয়ে হাবিবা আক্তার (৩), কামাল শেখের স্ত্রী পান্না বেগম (৪৫), ফজলে করিমের স্ত্রী কেয়া আক্তার (২২), ফজলে করিমের মেয়ে লাবিবা বেগম (২), কাইয়ুম আলীর ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন (১১), নড়াইল জেলা সদরের দহতলা এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী রাফিজা খাতুন (৩৫), নড়াইল সদর উপজেলার হানিফ মোল্লার স্ত্রী রিপা খাতুন(৩০)। এছাড়া যশোর জেলার কতোয়ালী থানার নরেন্দ্রপুর এলাকার মহসিন শেখের ছেলে শাহজাহান শেখ(৪০), শাহজাহান শেখের স্ত্রী ফারহানা বেগম(৩২) এবং খুলনার বুলাবাজার এলাকার কামাল শেখের স্ত্রী আফরি খাতুন(৩০)।

বুধবার(২১ মে) দিবাগত রাত ৮টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের গাটিয়ারভিটা সীমান্তের ৮২৬ নম্বর মেইন পিলারের ৬ নম্বর সাব-পিলার ও একই উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ঝালাঙ্গী সীমান্তের ৮৪৬ নম্বর মেইন পিলারের ৪ নম্বর সাব-পিলার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় কোচবিহার-৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গোমতী ক্যাম্প ও মহানদী ক্যাম্পের পৃথক দুইটি টহল দল দুই দফায় নারী-শিশুসহ ২০ জনকে ‘পুশ-ইন’ করলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের আটক করে রংপুর-৬১ তিস্তা-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ধবলসূতী ও ঝালাঙ্গী ক্যাম্পে হস্তান্তর করে।

আনুষ্ঠানিকভাবে এসব নারী ও শিশুকে পাটগ্রাম থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেছে বলে জানায় রংপুর-৬১ তিস্তা-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ধবলসূতী ও ঝালাঙ্গী ক্যাম্পের বিজিবি।

পাটগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিজিবির বরাত দিয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হেফাজতে থাকা নারী-শিশুসহ ২০ জনের মধ্যে ১১ জনকে ধবলসূতী বিজিবি ক্যাম্পের গাটিয়ারভিটা ও ঝালাঙ্গী বিজিবি ক্যাম্পের ঝালাঙ্গী সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ বাংলাদেশী নারী দাবি করে পুশ-ইন করেছে। এদের মধ্যে মধ্যে নড়াইল জেলার ১৭ জন, যশোর জেলার ২ জন ও খুলনা জেলার ১ জন রয়েছে।’

আটকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘গত মাসের ২৬ এপ্রিল তাদেরকে ভারতের গুজরাট প্রদেশের সুরাট শহর থেকে আটক করে ভারতীয় বিএসএফ ও পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। ২১ মে বিমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাগডোগরা বিমানঘাটিতে তাদেরকে আনা হয়। পরে সেখান থেকে বাসে বিভিন্ন সীমান্তে এনে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘হেফাজতে থাকা নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট থেকে প্রত্যায়নপত্রসহ আত্মীয়-স্বজনদের আসার জন্য বার্তা পাঠানো হয়েছে। এসব যাচাই-বাছাই করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময় পর্যন্ত থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হবে।’