রফতানিমুখী পোশাকপণ্যের অন্যতম কাঁচামাল সুতা। আমদানি করা তুলা থেকে সুতা উৎপাদন ও প্রচ্ছন্ন রফতানিতে দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বাদশা টেক্সটাইলস লিমিটেড। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প-কারখানাগুলোয় সাড়ে ১২ কোটি ডলারেরও বেশি সুতা সরবরাহ করেছিল। কভিডের প্রাদুর্ভাবেও গত বছর প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি খুব বেশি কমেনি। ২০২০ সালে বাদশা টেক্সটাইলস সুতা রফতানি করে ১১ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের কিছু বেশি। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই প্রতিষ্ঠানটি থেকে রফতানি হয়েছে ১০ কোটি ২৪ লাখ ডলারের সুতা।

পোশাক কারখানাগুলোতে কাপড় সরবরাহ করে ২০১৯ সালের শীর্ষ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ছিল হা-মীম ডেনিম মিলস। ওই বছর প্রতিষ্ঠানটি প্রায় সাড়ে ৯ কোটি ডলারের কাপড় রফতানি করে। ২০২০ সালে কমে যায় প্রতিষ্ঠানটির রফতানি। কভিডকালে হা-মীম ডেনিম থেকে রফতানি হয় সাড়ে ৬ কোটি ডলারের কাপড়। প্রতিষ্ঠানটির কাপড় রফতানি চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই ৬ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

বাদশা ও হা-মীমের মতো দেশের শীর্ষ সুতা-কাপড় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রায় সবাই কমবেশি ভালো ব্যবসা করছে। ২০১৯ সালের শুরু থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত গত আড়াই বছরে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট মহামারী চলছে দেড় বছরেও বেশি সময় ধরে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে কভিড প্রাদুর্ভাব শুরুর এক পর্যায়ে বিরূপ প্রভাবের মধ্যে পড়েছিলেন সুতা-কাপড়ের মিল মালিকরা। তবে চলতি বছরের মধ্যভাগে এসে ব্যবসার গতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন রফতানিমুখী বড় শিল্পোদ্যোক্তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসার বড় শিল্পোদ্যোক্তারা ব্যবসায়িক সক্ষমতার কারণেই মূলত বিপর্যয়ের মধ্যে টিকে থাকার প্রচেষ্টা চালিয়ে কভিড পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পেরেছেন। এক্ষেত্রে ক্রয় কৌশল, ব্যয় সংকোচন, মজুদ ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন পরিকল্পনার যথার্থতাসহ সার্বিকভাবে ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা দেখিয়েছেন বড়রা। পাশাপাশি কভিডকালের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে ক্রয়াদেশও বেড়েছে। আবার কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও দেখা যাচ্ছে রফতানি করা পণ্যের অর্থমূল্যে। সব মিলিয়ে সুতা-কাপড় মিল মালিকদের ব্যবসার তারল্যপ্রবাহ এখন বেশ ভালো। আর্থিক সক্ষমতার বিচারে এর প্রতিফলন বেশি দেখা যাচ্ছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর রফতানি পরিসংখ্যানে।

বিটিএমএর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুতা রফতানি করে আসছে বাদশা টেক্সটাইল। ২০০৪ সালে ময়মনসিংহের ভালুকায় স্থাপন হয় বাদশা টেক্সটাইলস লিমিটেড। এটির উদ্যোক্তা বাদশা মিয়ার আরেক প্রতিষ্ঠান কামাল ইয়ার্নও আছে শীর্ষ দশের তালিকায়। দেশে সুতা উৎপাদনে অন্যতম বড় এ দুই কারখানায় স্পিন্ডল আছে তিন লাখের ওপরে। দৈনিক প্রায় ২৬৫ টন উৎপাদন সক্ষমতার কারখানাগুলো নিয়ে বাদশা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের বার্ষিক টার্নওভার ৩০-৪০ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে কর্মী সংখ্যা ২৮ হাজার। কভিডকালে ব্যবসায় প্রভাব পড়লেও তা খুব বেশি ভোগায়নি গ্রুপটিকে।

২০১৯ সালে বাদশা মিয়ার কামাল ইয়ার্নের রফতানি অর্থমূল্য ছিল ৯ কোটি ৪৭ লাখ ৮১ হাজার ৯৫৩ ডলার। এ রফতানির মাধ্যমে ওই বছর শীর্ষ দশে দ্বিতীয় অবস্থানে জায়গা করে নেয় কামাল ইয়ার্ন লিমিটেড। ২০২০ সালের পুরোটা জুড়ে কভিডকালে প্রতিষ্ঠানটির রফতানি কমে যায়। ওই বছর ৬ কোটি ৮৮ লাখ ডলারে নেমে আসে রফতানি। তবে ২০২১ সালের সাত মাসেই প্রতিষ্ঠানটি রফতানি করেছে ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৩৬ হাজার ডলারের সুতা।

বাদশা টেক্সটাইল ও কামাল ইয়ার্নের কর্ণধার মো. বাদশা মিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, কভিডকালীন প্রথম সাত-আট মাসে অনেক লোকসান হয়েছে। তুলার দাম পড়ে যায় মার্চ-এপ্রিলে। তখন আমরা হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। এরপর পোশাকের ক্রয়াদেশ ফিরতে শুরু করলে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াতে থাকে। অবশ্য দাম পাওয়া যাচ্ছিল না তখনো। পর্যায়ক্রমে কারখানার সব মজুদ পণ্য শেষ হয়ে যায়। কভিডের দ্বিতীয় প্রবাহ-পরবর্তী অবস্থায় অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে বাজারে। আবার প্রধান কাঁচামাল তুলার দামও আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে। সার্বিকভাবে ব্যবসার বর্তমান ভালোর পেছনে অতিরিক্ত চাহিদা বড় ভূমিকা রাখছে।

সুতা রফতানিতে ২০২০ সালের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের বাদশা টেক্সটাইলের পরই আছে অন্যতম বড় শিল্প গ্রুপ স্কয়ারের কর্ণধার ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা তপন চৌধুরীর স্কয়ার টেক্সটাইলস। ১৯৯৭ সালে যাত্রা করা প্রতিষ্ঠানটি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। টেক্সটাইল খাতের পাশাপাশি টয়লেট্রিজ পণ্য উৎপাদন, গণমাধ্যমে বিনিয়োগ থাকা স্কয়ার গ্রুপের বার্ষিক টার্নওভার ১১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

কভিডকালের প্রথম বছরে স্কয়ার টেক্সটাইলস থেকে সুতা রফতানি ছিল ২০১৯ সালের চেয়ে বেশি। ২০২০ সালে ৯ কোটি ৭১ লাখ ডলারের বেশি সুতা রফতানি করেছে স্কয়ার। আর চলতি বছরের সাত মাসেই সুতা রফতানি হয়েছে ৭ কোটি ডলারের বেশি। এ সময়ে শীর্ষ দশের চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে স্কয়ার টেক্সটাইলস।

স্কয়ার টেক্সটাইলসের চেয়ারম্যান তপন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, টেক্সটাইল খাতে আমাদের চারটি স্পিনিং মিল আছে। এগুলোর সঙ্গে ফ্যাব্রিকের কারখানা আছে। কিন্তু আমাদের রেডিমেড ওভেন গার্মেন্টসের কোনো ইউনিট ছিল না। সেই ওভেন গার্মেন্টসের কাজটা বেশ বড়ভাবে শুরু হয়েছে। কভিডের শুরুতে পোশাক রফতানিতে যে অনিশ্চয়তা ছিল তা কেটে গেছে অনেকটাই। স্কয়ারের কারখানাগুলোয় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চলছে।

২০২০ সালে সুতা রফতানিতে শীর্ষ দশে তৃতীয় অবস্থানে ছিল এএ কোয়ার্স স্পান। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে এমএসএ স্পিনিং। এমএসএ টেক্সটাইলের অবস্থান তালিকার ছয়ে। তিনটিই এএ হোল্ডিংসের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান, যার অন্যতম উদ্যোক্তা ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা শাহাবুদ্দিন আহমেদ। এএ কোয়ার্স স্পান ২০১৯ সালে রফতানি করে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলারের সুতা, যা ২০২০ সালে আরো বেড়েছে। ওই বছর রফতানি হয় ৬ কোটি ৬৭ লাখ ৮৬ হাজার ডলারের সুতা। চলতি বছরের সাত মাসে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের সুতা রফতানি করেছে এএ কোয়ার্স স্পান। এএ হোল্ডিংসের আরেক প্রতিষ্ঠান এমএসএ স্পিনিং ২০১৯ সালে রফতানি করে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫২ হাজার ডলারের সুতা। ২০২০ সালে যা বেড়ে হয়েছিল ৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। চলতি বছর সাত মাসে এমএসএ স্পিনিংয়ের রফতানি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। আর এমএসএ টেক্সটাইল ২০২০ সালে ৪ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের সুতা রফতানি করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে বেশি। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে প্রতিষ্ঠানটি সুতা রফতানি করেছে ৬ কোটি ৭ লাখ ডলারের।

রফতানি মূল্য বিবেচনায় গত বছর শীর্ষ দশে থাকা সুতা রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম তিন ভাই মির্জা আহমেদ, মির্জা আবুল হাসান ও মির্জা মাহমুদের মালিকানাধীন এমএম ইস্পাহানি লিমিটেডের পাহাড়তলী টেক্সটাইলস অ্যান্ড হোসিয়ারি। এছাড়া তালিকায় রয়েছে মুখলেসুর রহমানের এনআরজি স্পিনিং, মোহাম্মদ আলী খোকনের ম্যাকসন্স স্পিনিং ও রফিকুল ইসলাম খানের পাকিজা কটন স্পিনিং মিলস প্রাইভেট লিমিটেড।

কাপড় রফতানিতে শীর্ষ দশে ২০২০ সালের প্রথম অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানটি হলো নাইস ডেনিম। নোমান ও সাদ গ্রুপের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা নুরুল ইসলাম। নাইস ডেনিম বার্ষিক ৭ কোটি ২০ লাখ গজ ডেনিম উৎপাদনে সক্ষম। আশির দশকে যাত্রা করা দেশের অন্যতম বৃহৎ কাপড় উৎপাদনকারী নাইস ডেনিম ২০১৯ সালে ৭ কোটি ৩১ লাখ ডলারের কাপড় রফতানি করে। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৮ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের কাপড় রফতানি করেছে। আর চলতি বছরের সাত মাসে রফতানির অর্থমূল্য ৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।

নোমান গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জুবায়ের বণিক বার্তাকে বলেন, কভিডকালের অভিজ্ঞতা সার্বিকভাবে ভালো না। মান বজায় রেখে লিড টাইম অনুযায়ী রফতানি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কভিডকালে সমস্যা ছিল আতঙ্ক। বৈশ্বিক এ আতঙ্কের ধাক্কা সামলাতে হয়েছে আমাদেরও। কাঁচামাল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল, তুলার দাম বেড়েছে। চাহিদা এখন অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ডেনিমের চাহিদা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য। কভিডের শুরুতে চাহিদা নিম্নমুখী ছিল। এখন কভিডের দুশ্চিন্তা সহনীয় হওয়ার পর চাহিদায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।


কাপড় রফতানিতে ২০২০ সালে শীর্ষ দশের প্রথম নাইস ডেনিমের পরেই ছিল হা-মীম ডেনিম। শুধু কাপড়ই না, মূল প্রতিষ্ঠান হা-মীম গ্রুপের অধীনে রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানও। গ্রুপের বার্ষিক মোট রফতানির পরিমাণ ৫৫ কোটি


ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় (প্রতি ডলারে ৮৪ দশমিক ৮ টাকা হিসেবে) প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক রফতানির পরিমাণ ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি।

১৯৮৪ সালে দূরদর্শী ভাবনা থেকে হা-মীম গ্রুপের ব্যবসায়িক যাত্রা করেন উদ্যোগী মানুষ এ কে আজাদ। সেই থেকে তার গড়ে তোলা হা-মীম গ্রুপে একে একে যুক্ত হয়েছে ২৬টি কারখানা। বস্ত্র ও পোশাক খাত ছাড়াও হা-মীম গ্রুপের ব্যবসার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে আছে জুট মিল, কেমিক্যাল ফরমুলেশন প্লান্ট, হংকং ও চীনের সোর্সিং কার্যালয়, চা বাগান, পরিবহন কোম্পানি, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান, টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্র। এর মধ্যে হা-মীম ডেনিম প্রতিষ্ঠা পায় ২০০৭ সালে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মাসে উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ লাখ গজ কাপড়।

কভিডকালে রফতানি অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, গত বছর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কারখানা চালু রাখা। ক্রয়াদেশ ছিল অনেক কম। পণ্যের দাম কমাতেও চাপ ছিল ক্রেতাদের, তার পরও কিছু ক্রয়াদেশ আমাদের নিতে হয়েছে কারখানা চালু রাখার স্বার্থে। এতে বেশকিছু ক্রয়াদেশে আমাদের লস হয়েছে, কিন্তু শ্রমিকদের স্বার্থে আমরা কাজ চলমান রেখেছি। হা-মীম গ্রুপ ২০২০ সালে ২০১৯ সালের সমপরিমাণ রফতানি করতে পারেনি। ২০১৯-এর তুলনায় ৫ কোটি ডলারের কম রফতানি হয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। চাহিদা প্রতিনিয়তই বাড়ছে।

গত বছর কাপড় রফতানিতে শীর্ষ দশের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের শাশা ডেনিমস। ১৯৯৬ সালে যাত্রা করা প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে ২১ লাখ গজ ডেনিম উৎপাদনে সক্ষম। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাখাওয়াত হোসেন। ব্যবসায় রয়েছে তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা। তার প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের মাসিক উইভিং সক্ষমতা ২৪ লাখ গজ।


কাপড় রফতানির শীর্ষ দশে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সেখ আকিজ উদ্দিনের আকিজ গ্রুপের আকিজ টেক্সটাইল, কুতুব উদ্দিন ও আবদুস সালাম মূর্শেদীর এনভয় টেক্সটাইল, একেএম আমিনুল ইসলামের মাহমুদ ডেনিমস, শওকত আজিজ রাসেলের আম্বার গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আম্বার ডেনিম, সিলভার কম্পোজিট টেক্সটাইল ও স্কয়ার ডেনিমস।

কভিডকালে সুতা-কাপড়ের বড় শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো ব্যবসা করছে মূলত নিজস্ব সক্ষমতার গুণে, এমন মত পোষণ করেন ২০২০ সালের শীর্ষ ১০ সুতা রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নবম অবস্থানে থাকা ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বর্তমানে চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে এটা ঠিক। তবে আমি মনে করি, চাহিদার এ উল্লম্ফন সাময়িক। বড় রফতানিকারকরা প্রকিউরমেন্ট কৌশল গ্রহণে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া কভিডের সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্যে উৎপাদন দক্ষতাও টিকে থাকার পাশাপাশি ভালো ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।