একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওয়াশ সুবিধা (টয়লেট) ও খেলার মাঠ থাকা আবশ্যক। তবে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা এলাকার কর্ণপুর গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসব সুবিধা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির একটি দ্বিতল ভবন থাকলেও খেলাধুলার জন্য মাঠ নেই। বিদ্যালয়ের সামনে একটি সরকারি পুকুর ভরাট করে মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হলেও তা এখনো উপযোগী হয়নি। বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লকও নির্মাণ করা হয়নি। এ অবস্থায় বিদ্যালয়টিতে কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

শিক্ষকরা বলছেন, বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে। কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক শিক্ষার্থী না থাকা, শিশুদের জন্য খেলার মাঠের অভাব এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। এ অবস্থার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, কোনো শিক্ষার্থীই ছিল না। একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে পাঁচজন শিক্ষক বসে আছেন। পঞ্চম শ্রেণীতে সাতজন, চতুর্থ শ্রেণীতে ১১, তৃতীয় শ্রেণীতে ১৬, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১৪ ও প্রথম শ্রেণীতে ১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে সবশেষ বার্ষিক পরীক্ষায় কতজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে সে বিষয়ে কোনো লিখিত প্রমাণ দেখাতে পারেননি প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘খেলার মাঠ না থাকায় দিন দিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। আশপাশে আরো কয়েকটি বিদ্যালয় থাকায় অনেক শিক্ষার্থী সেখানে চলে যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, ‘কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থী না থাকার কারণ খুঁজে দেখা হবে। বিদ্যালয়ের জমির অবস্থানসহ কাগজপত্র যাচাই করে দেখব।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ ভূইয়া জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।