রাঙ্গামাটিতে পিকআপের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ছয় যাত্রী নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় মুন্সিগঞ্জে তিনজনসহ চট্টগ্রাম, বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জে ছয়জনের প্রাণহানি হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

রাঙ্গামাটি: কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া বাজার থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা বেশ কয়েকজন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। বেতবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় বিপরীত থেকে আসা একটি পিকআপ সামনে থেকে অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে আরো তিনজন মারা যান।

নিহতরা হলেন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কাজীপাড়ার সোয়াব আলীর ছেলে মো. আবু তাহের (৫০), হাটহাজারী উপজেলার পূর্ব আলমপুরের মৃত তৈয়ব নিয়ার ছেলে মাহাবুবুর রহমান বাচ্চু (৫০), রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মাজারগেট সাদেকনগর এলাকার মো. সিরাজুল হকের ছেলে জয়নাল আবেদীন ওরফে আবুল বাশার, সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী হাসনাবাদের মৃত হোলজারের ছেলে ইজাদুল (২৫) এবং রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া তালুকদার পাড়ার আব্দুর রহিমের স্ত্রী নুরুন নাহার (৪০)। তবে নিহত মারমা এক নারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন।

নিহত নুরুন নাহারের স্বামী আব্দুর রহিম জানান, ‌সকালে তার স্ত্রী বেতবুনিয়ায় বাজার করতে গিয়েছিল। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাওয়ার সময় একটি পিকআপ এসে সামনে থেকে ধাক্কা দিলে অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে তার স্ত্রীসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে মারা যান।

কাউখালী থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম সোহাগ জানান, ঘটনাস্থলে তিনজন মারা গেছেন। আহত তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারাও মারা যান। মরদেহগুলো রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন জানান, রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। জেলা প্রশাসন এ পর্যন্ত পাঁচজনের নাম পরিচয় নিশ্চিত হতে পেরেছে। তবে এক মারমা নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর ও সিরাজদিখানে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো দুজন।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে শ্রীনগরের হাসাড়ায় ও গতকাল সকাল ৯টার দিকে সিরাজদিখানের নিমতলা রেলস্টেশনের সামনে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, একটি ট্রাক পেছন থেকে মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান রংপুর জেলার বাসিন্দা আলিমুল (২৭)। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আবদুর রহমানকে (১৭) গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এছাড়া গতকাল সকালে নিমতলা এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে গাড়ির ধাক্কায় নিহত হয়েছেন এক মোটরসাইকেল চালক। তবে তার পরিচয় জানা যায়নি। এর আগে শুক্রবার রাতে মোটরসাইকেল চাপায় নিহত হন পায়েল ব্যাপারী (২৪) নামে এক পথচারী। এ সময় আহত হন আরো দুজন।

চট্টগ্রাম: সীতাকুণ্ডে বাসের ধাক্কায় একটি পিকআপ উল্টে এক শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন শিশুটির মা-বাবাসহ আরো সাতজন। গতকাল সকাল ৬টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চৌধুরী মার্কেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম জাকিয়া ইসলাম (৫)। আহত হয়েছেন শিশুটির বাবা জামাল উদ্দিন (৩৮), মা লাইজু বেগম (৩০), ভাই মো. ফয়সাল (১৪), নানি সেলিনা বেগম (৬০), খালা রিমা আক্তার (২৮) ও খালাত বোন সুমাইয়া আক্তার (৫) ও গাড়িচালক মো. রায়হান (২৪)। তারা সবাই পিকআপে ছিলেন।

বরিশাল: কাভার্ড ভ্যানচাপায় সোনিয়া বেগম (২১) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের নবগ্রাম রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি জাকির শিকদার। নিহত সোনিয়া বেগম রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ কড়াপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুক সরদারের স্ত্রী।

নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জে বাসচাপায় জাহাঙ্গীর আলম (৩৮) নামে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মচারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাবিহা চৌধুরী আরেক কর্মচারী ও তার শিশু সন্তান। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার তারাব পৌরসভার তারাব সুলতানা কামাল সেতুতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাহাঙ্গীর আলম জামালপুরের সরিষাবাড়ি থানার দোয়াইল এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।

শিমরাইল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবু নাঈম সিদ্দিকী জানান, জাহাঙ্গীর আলম ফটোকপি অপারেটর হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন। আর সাবিহা চৌধুরী অফিস সহায়ক। গতকাল ছুটির দিন থাকায় বিকালে সাবিহা চৌধুরী তার শিশুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে রাজধানীর নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে যাচ্ছিলেন জাহাঙ্গীর। এ সময় তারাব সুলতানা কামাল সেতুতে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীর নিহত হন। স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় সাবিহা চৌধুরী ও তার সন্তানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।