শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগে রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর লালবাগে শহীদ আব্দুল আলীম খেলার মাঠে আয়োজিত ‘ঢাকা রাইজিং’ সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির আসনে বসে চুপ্পু মিথ্যাচার করে বলেছেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগের দালিলিক প্রমাণ নেই। মহামান্যের চেয়ারে বসে যে মহা মিথ্যাচার করেছেন তাতে তিনি আর কোনোভাবেই ওই চেয়ারে থাকতে পারেন না। অতএব সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি আমাদের আহ্বান আপনারা রাষ্ট্রপতির অপসারণের ব্যাপারে সবাই ঐক্যমতে আসুন। তা না হলে ওই সব ফ্যাসিবাদী শক্তি যারা বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, সে ফাঁদে আমাদের পড়তে হবে। এ ফাঁদ থেকে বাঁচতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ এ সময় গণতন্ত্রকামী জনগণকেও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আমাদের যে দীর্ঘ লড়াই, সে লড়াইয়ে এরই মধ্যে একটি সুখের সংবাদ পেয়েছি। সেটা হলো খুনি-সন্ত্রাসীদের সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাত্রলীগ এতই বর্বর ছিল যে বুয়েটের হলে আবরার ফাহাদকে তারা পিটিয়ে হত্যা করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোকে তারা টর্চার সেলে পরিণত করেছিল। ৫ আগস্টের পর যখন আমরা নতুন বাংলাদেশ পেলাম তখন দেখলাম প্রতিটি হলগুলোতে অস্ত্রের স্তুপ জমা হয়েছে। এ অস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের জন্য। শুধু ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করলেই চলবে না- ছাত্রলীগকে যারা পুষেছে, মদদ দিয়েছে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা অনেক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সংবিধানের দোহাই দেখানো হচ্ছে। সংবিধানের দোহাই দেখিয়ে আমাদের ঘরে ফেরানো সম্ভব নয়। যে সংবিধান আমাদের সামনে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে তৈরি করেছিল, সে সংবিধানকে বাংলাদেশের মানুষ আর এক সেকেন্ডের জন্যও সহ্য করবে না। ওই সংবিধানকে বাতিল করে নতুনভাবে দেশ পরিচালনা করতে হবে।’
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতা এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। অন্যদিকে হাসিনার ফ্যাসিস্ট আমলের অংশ সচিবালয়, ক্যান্টনমেন্ট, বঙ্গভবনে বসে বসে আহ্লাদ করছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই চুপ্পু বঙ্গভবনে আর থাকতে পারবে না। হাসিনা পালিয়ে গেছে। এবার সারা দেশের আনাচে-কানাচে যেসব ফ্যাসিস্ট রয়েছে তারাও পালিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ! চুপ্পুকে অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে আপনারা আসুন, গোলটেবিল ছাড়ুন, রাজপথে নামুন। দ্বিতীয় রিপাবলিক গড়তে আমরা আবারো মাঠে নামি। আমাদের অনেক ভাই রক্ত দিয়েছে, আমরা আরো রক্ত দিতে প্রস্তুত। যতদিন দেহে রক্ত আছে ততদিন হাসিনার দোসরদের আমরা বিরাজমান দেখতে চাই না।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে সর্তক করে দিতে চাই। আপনারা আগস্টের আগে আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু এখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারো বাংলাদেশে বিভাজনের রাজনীতি চালু করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান, দেশের সংকট মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানচিত্র স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করুন।’
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতাকর্মী ছাড়াও রাজধানীর লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, চকবাজার, বংশাল, কোতোয়ালিসহ বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।









