বগুড়ায় আসন্ন ঈদুল আজহার কোরবানির পশু জবাইয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাটে যেমন জমে উঠেছে পশু বেচাকেনা, তেমনি শহরের মোড়ে মোড়ে বিক্রি হচ্ছে দা ও ছুরি। বিভিন্ন দামের ও মানের দা ও ছুরি কেনাবেচা চলছে ব্যাপক হারে। দা ও ছুরির বাজারে চায়নিজ ও বার্মিজ ছুরির কদর থাকলেও শহরের মানুষ দেশীয় কামারশালায় তৈরি দা ও ছুরিই বেশি কিনছেন।

ঈদুল আজহা একেবারে কাছে চলে আসায় কোরবানির পশু জবাই ও চামড়া ছাড়ানোর জন্য ধারালো ছুরি, রামদা ও কাঠের গুঁড়ির কদর বেড়েছে। বগুড়ায় কোরবানির জন্য পশুর হাটের পর এবার ভিড় বাড়ছে ছুরি, চাপাতি, বঁটি দার দোকানে। কেউ শখের বশে কামারশালায় ভালো মানের কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য রামদা-ছুরি তৈরি করে নিচ্ছেন। ছুরি, বঁটির দোকান ও কামারশালায় ভিড় বেড়েছে আগের থেকে দ্বিগুণ। দেশে তৈরি ছুরিই বেশি দেখা যাচ্ছে বগুড়ার বাজারে।

বগুড়া শহরের বিভিন্ন মোড়, চেলোপাড়া, ১নং রেলগুমটি, ২নং রেলগুমটি, ৩নং রেলগুমটি, কাঁচা লোহার জন্য ভাংড়ি পট্টি, কাঁঠাল তোলা, চেলোপাড়া, কলোনিসহ কয়েকটি এলাকায় বিক্রি হচ্ছে পশুর চামড়া ছাড়ানো, গোস্ত কাটা, জবাই করার বিভিন্ন ধরনের ছোট ও বড় ছুরি, রামদা, চাকু, বঁটি, কাঠের গুঁড়ি। বগুড়ার বাজারে বেশির ভাগই বেচাকেনা হচ্ছে দেশী ছুরি। এছাড়া চীনের ও বার্মার কথা বলে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন নামের প্যাকেট ছুরি। দেশীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন মানের ছোট ছুরি ২০-৬০ টাকা, একটু বড় ১০০-১৫০, রামদা ৩৫০-৬০০, বঁটি বিভিন্ন মানের আকারের ৫০-৪০০, চাপাতি ৩৫০-৬০০, বড় ধারালো পশু জবাইয়ের ছুরি ৫০০-১০০০ টাকা। এর সঙ্গে বার্মিজ ও চীনের তৈরি সিলভার রঙের মান অনুযায়ী চকচকে চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকায়। চায়না ছোট ছুরি ১০০, পশু জবাই করার ছুরি ৩০০-৬০০, দা ৩০০ থেকে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে।

দোকানিরা বলছেন, দেশীয় তৈরি বিভিন্ন ধরনের দা ও রামদা বেশি বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে আবার চীনের কথা বলে দাম বাড়িয়েও বিক্রি হচ্ছে দা ও ছুরি। ছুরি ও বঁটির সঙ্গে দাম বেড়েছে গাছের গুঁড়ির। ছোট-বড় বিভিন্ন দামের গাছের গুঁড়ি বিক্রি হচ্ছে ২০০-৮০০ টাকা করে।

বগুড়া শহরের ২নং রেলগুমটির কাছের এক কাঠের গুঁড়ি ও ছুরিবিক্রেতা জানান, কোরবানি উপলক্ষে ছুরি, দা, রামদার বিক্রি বেড়েছে। বিভিন্ন দামের এবং মানের ছুরি বিক্রি হচ্ছে। দেশী তৈরি মোটা শিটের ছুরি বিক্রি হচ্ছে ১০০-২০০ টাকার মধ্যে। 

বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে জেলার ১২টি উপজেলার ৪৬ হাজার ১৫ খামারি মোট ৪ লাখ ২৭ হাজার ২৯৫টি গবাদি পশু কোরবানিযোগ্য করে তুলেছেন। এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৭৫টি। চাহিদার অতিরিক্ত পশু রয়েছে ৬৭ হাজার ৯২০টি। এ পশুগুলোর মধ্যে গরু (ষাঁড়, বলদ ও গাভী) ২ লাখ ৬৭ হাজার ৭৯৮, মহিষ ১ হাজার ৭৩৩, ছাগল ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৮ এবং ভেড়া ২৮ হাজার ২২৬টি। গেল ঈদে এ জেলায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ পশু জবাই করা হয়েছে।