দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকট ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে ব্যাহত হচ্ছে নরসিংদী সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা। ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে, এর জন্য নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ভবনও। তবে জনবল সংকটের কারণে সেটি এখনো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুরনো ১০০ শয্যার ভবনেই চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। পুরনো ভবনের ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসার ফলে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগে বর্তমানে মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ প্রতিদিন এ বিভাগে কয়েকশ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। পাশাপাশি বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার রোগী কার্ডিওলজি, চর্মরোগ, স্ত্রীরোগ ও শিশু বিভাগে সেবা নিতে আসেন। এ অবস্থায় হাসপাতালটিতে একজন চিকিৎসককে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী দেখতে হচ্ছে। ফলে রোগীদের যথাযথভাবে পরীক্ষা করা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাচ্ছে না।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য অনুমোদিত ২০টি পদের মধ্যে তিনটি এবং ১৩৭টি নার্স পদের মধ্যে ছয়টি শূন্য রয়েছে। এছাড়া ফরওয়ার্ড বয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাঁচটি পদও খালি পড়ে আছে। রোগীদের অভিযোগ, স্বল্প সময়ের মধ্যে চিকিৎসা দেয়ায় তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। অনেক সময় ভর্তি রোগীর সংখ্যা হাসপাতালের ১০০ শয্যার ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ হয়ে যায়, যা জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবাকে আরো ব্যাহত করছে।
সদর হাসপাতালের ড্রাইভার জয়নাল আবেদীন জানান, হাসপাতালে দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও এর একটি ২০১৮ সাল থেকে বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাছাড়া অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কোনো চালকের অনুমোদিত পদ নেই। ফলে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে চালক নিয়োগ করে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেয়া হচ্ছে।
এদিকে টেকনোলজিস্টের অভাবে হাসপাতালের ল্যাবরেটরি ও এক্স-রে সেবা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা হাসপাতালে করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে রোগীদের বেশি খরচে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে।
রোগীর স্বজন আহমেদ ইসলাম (২৭) বলেন, ‘জরুরি অবস্থায় হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স প্রায়ই পাওয়া যায় না। নরসিংদী থেকে আমার বাবাকে ঢাকায় নেয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স চাইলে নানা অজুহাত দেখানো হয়। পরে বাধ্য হয়ে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হয়।’
এ বিষয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফারিদা গোলশান আরা কবির বলেন, ‘বিদ্যমান সংকটগুলো সমাধানের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছি।’










