লক্ষ্মীপুরে জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব ইমামকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. মাফুজ্জামান আশরাফ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের নন্দি গ্রামের মৃত আবদুল মন্নানের ছেলে মো. সবুজ (৩১) ও মো. তাজল ইসলামের ছেলে আজিজুল ইসলাম বাবলু (৩২)। তারা দুজন নোমান ও রাকিব হত্যা মামলার এজারভুক্ত আসামি। অপরজন মো. ইসমাইল হোসেন সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের বশিকপুর গ্রামের মো. সেলিম পাটোয়ারীর ছেলে। জোরা খুনের ঘটনার সঙ্গে ইসমাইল জড়িত রয়েছে বলে পুলিশের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে।
এর আগে ঘটনার ২৭ ঘণ্টা পর নিহত নোমানের বড় ভাই স্থানীয় বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে আওয়ামীলীগ নেতা আবুল কাশেম জিহাদিসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ৩৩ জনকে আসামি করে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
মাহফুজুর রহমান জানান, ছোট ভাইকে হারিয়ে শোকাহত থাকায় মামলা রুজু করতে দেরি হয়েছে তাদের। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জিহাদি নির্বাচনে হেরে পরিকল্পিতভাবে তার ভাই যুবলীগ নেতা নোমান ও ছাত্রলীগ নেতা রাকিবকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এ জোরা খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিচার দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর থেকে তার-পরিবার আতঙ্কিত রয়েছে। যে কোনো সময় তাদের ওপরও হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাতে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের পোদ্দার বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তরা যুবলীগ নেতা নোমান ও ছাত্রলীগ নেতা রাকিবকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। পরে গুলিবিদ্ধ দুই নেতাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নোমান ও রাকিব মাথায় ও মুখে গুলির আঘাতে মারা গেছেন বলে জানান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ারে হোসেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।










