সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় কম রাখা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ডিজেলের দাম বাড়ায়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের বেশির ভাগই ডিজেল। তাই এর দাম অপরিবর্তিত রাখায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সহায়তা করবে।

আজ শনিবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম সমন্বয় নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও বক্তব্য দেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এরপরো সরকার দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। চলতি জুনে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হলেও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে প্রতি মাসে ৩ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টন ডিজেল ব্যবহৃত হয়, যা মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৮২ শতাংশ। পণ্যবাহী ট্রাক, গণপরিবহণ ও কৃষি সেচকাজে মূলত ডিজেল ব্যবহৃত হয়। তাই ডিজেলের দামের সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

উপদেষ্টা আরো বলেন, পেট্রোল ও অকটেন মূলত ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যবহৃত হয়। এ দুই জ্বালানির মাসিক ব্যবহার যথাক্রমে ৯ ও ৮ শতাংশ। ফলে এসবের দাম বাড়লেও সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের যাতায়াত ব্যয় বা নিত্যপণ্যের দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

বিদ্যুতের নতুন শুল্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন গণশুনানি শেষে সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছে। এর ফলে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহক এবং প্রথম ধাপের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের বাড়তি মূল্য দিতে হবে না।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশ এই দুই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম সমন্বয়ের পরও দেশের বেশির ভাগ মানুষকে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দাম সমন্বয়ের পরও আগামী বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, অতীতে জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভর করে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এতে স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি পরিবর্তনে স্থলভাগ ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।

পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সৌরবিদ্যুৎচালিত বা বৈদ্যুতিক স্কুলবাসের মতো পরিবেশবান্ধব পরিবহণে বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, সরকার শুধু ভর্তুকি কমানোর দিকে নজর দিচ্ছে না। সাশ্রয় হওয়া অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যেমন পরিবার কার্ড ও টিসিবির কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম সমন্বয়ের অজুহাতে যাতে বাজারে পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে না বাড়ে, সে জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।