কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকালে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উত্তরপাড়া সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এর আগে সন্ধ্যায় নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন মো. আলমগীর (৩১) নামে এক বাংলাদেশী জেলে।

গুলিবিদ্ধ আলমগীর টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন বালুখালী গ্রামের সৈয়দ আহমদের ছেলে। গুলিটি মিয়ানমার সীমান্তের দিক থেকে ছোড়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে উখিয়ার একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম জানান, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ জেলে পরিবারের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই খোকন কান্তি রুদ্র জানান, সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেলেও কার গুলিতে জেলে আহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গুলিবিদ্ধ আলমগীরের পরিবার বলছে, বৃহস্পতিবার বিকালে এক সহযোগীকে নিয়ে নৌকায় করে নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান আলমগীর। তারা নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা ‘বিলাসীর দ্বীপ’ নামের জলসীমানায় পৌঁছলে হঠাৎ মিয়ানমারের দিক থেকে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় একটি গুলি এসে আলমগীরের বাঁ হাতে লাগে।

সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। শুক্রবার সকালেও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নাফ নদীতে জেগে ওঠা দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দেশটির রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়েছে আরএসও। ওপার সীমান্তের তোতার দিয়া, হাসিমের দিয়া, বিলাসী দ্বীপ ও হসের দিয়া এলাকায় দখল ও পুনরুদ্ধার ঘিরে এ ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘ এক বছর শান্ত থাকার পর নতুন করে বিস্ফোরণে আতঙ্কে রয়েছে সীমান্তের অন্তত আট হাজার মানুষ। ঝুঁকিতে পড়েছেন নাফ নদীতে মাছ ধরা হাজারও জেলে।

এ ব্যাপারে ৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাফ নদীতে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হন। গতকাল সকালে মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’