কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্বন নিঃসরণের মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেবে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির গতকালের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রাজধানীর পরিবেশ অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সাবের হোসেন চৌধুরী।

বৈঠক শেষে সাবের হোসেন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রকল্প থেকে দূষণের মাত্রা নিয়ে আলোচনা হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নতুন যে মহাপরিকল্পনা হচ্ছে সেখানে এ বিষয়ে তেমন কিছু উল্লেখ নেই। বিভিন্ন দেশ যারা এখানে বিনিয়োগ করছে তারা তাদের দেশের মানমাত্রা অনুসরণ করছে, অনেক ক্ষেত্রে তারা বাড়তি ছাড় চাইছে।’

তিনি বলেন, ‘‌তারা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তারা পরিবেশের দিকটা দেখবেন। তাদের সুপারিশ হলো প্রকল্পে কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী দেশের যে মানমাত্রা সেটা ও বাংলাদেশের আইন বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় নিতে হবে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর কিসের ভিত্তিতে নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্বন নিঃসরণ মাত্রা নির্ধারণ করে সে বিষয়টি সংসদীয় কমিটি জানতে সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটিতে পরিবেশ অধিদপ্তর এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিঃসরণ মাত্রা বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করার তথ্য উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, পরিবেশ দূষণের দায়ে জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হবে। বিদ্যমান জরিমানার পরিমাণ সংশোধন করা হবে। 

সাবের হোসেন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌ট্যানারি তার ইটিপি বন্ধ রাখলে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা লাভ হয়। কিন্তু ইটিপি বন্ধ করে দূষণের দায়ে তাদের জরিমানা হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। তাই তারা জরিমানা দেয়ার সুযোগটি নেবে, এটাই স্বাভাবিক। অপরাধের মাত্রার সঙ্গে জরিমানার পরিমাণের সম্পর্ক থাকতে হবে। জরিমানার বিষয়টি সংশোধন করা হবে।’

এছাড়া কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি পরিবেশ দূষণের দায়ে সরাসরি মামলা করার সুযোগ দিয়ে আইনের সংশোধন আনা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্লক ইট তৈরিতে ভাটা মালিকদের সুযোগ বাড়ানো, ব্লক ইট ব্যবহারের সুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি নির্মাণকাজে শতভাগ ব্লক ইটের ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি।

সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, রেজাউল করিম এবং খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন বৈঠকে অংশ নেন।