নির্দিষ্ট শ্রেণীর গ্রাহকদের বিমানবন্দরে স্কাইলাউঞ্জ সেবা দিয়ে আস‌ছিল ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল)। এই সেবা দিতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে ব্যাংকটিকে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাকা ই‌বিএল স্কাইলাউঞ্জ সিলগালা করে দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এজন্য ইবিএল দায়ী করছে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান করিম অ্যাসোসিয়েটসকে। প্রতারণার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলাও করেছে ইবিএল।

দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ ভিআইপি যাত্রীদের বিশেষায়িত সেবা দিতে আয়োজন করা হয় স্কাইলাউঞ্জের। যাত্রীদের মধ্যে সাড়া ফেলতে ব্যাংকগুলোই মূলত এসব লাউঞ্জ পরিচালনা করে। বিভিন্ন ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জায়গা বরাদ্দ নিয়ে তারকা মানের লাউঞ্জ স্থাপন করে থাকে ব্যাংকগুলো।

এজন্য তাদের এককালীন অর্থ পরিশোধ করতে হয় ইজারাদার প্রতিষ্ঠানকে। এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্কাইলাউঞ্জ সেবা প্রদান করছে ইবিএল। কিন্তু তাদের দাবি, এ সেবা দিতে গিয়ে নিজেদের সুনাম নষ্টের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হয়েছে তাদের।

ইবিএলের ভাষ্যমতে, ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্কাইলাউঞ্জ সেবা প্রদানের জন্য করিম অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে চুক্তি হয় তাদের। চুক্তি অনুযায়ী করিম অ্যাসোসিয়েটস ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ইবিএল স্কাইলাউঞ্জে আসা ব্যাংকের গ্রাহকদের বিভিন্ন সেবা প্রদানে দায়বদ্ধ ছিল। সেজন্য ইজারাদার প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বমোট ১১ কোটি ২৮ লাখ ৯৫ হাজার ৫৯৮ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু তারা নির্দিষ্ট সময়ে বেবিচককে স্কাউলাউঞ্জের ভাড়া বাবদ কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। ফলে বেবিচক ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর ইবিএলের স্কাইলাউঞ্জ সিলগালা করে দেয়।

পরবর্তী সময়ে বেবিচক ইবিএল স্কাইলাউঞ্জের জায়গাটি ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের অনুকূলে ইজারা বরাদ্দ দেয়। বিমানবন্দরে গ্রাহকসেবা অব্যাহত রাখতে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সঙ্গে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হতে হয় ইবিএলকে। চড়া মূল্যে বরাদ্দ নিয়ে পুনরায় স্কাইলাউঞ্জ চালু করতে হয় তাদের।

এ ঘটনায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে করিম অ্যাসোসিয়েটসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ইবিএল। মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহাদ করিম ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদকে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফাহাদ করিমের বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধিকবার সেলফোনে কল এবং ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ইবিএল স্কাইলাউঞ্জের ভাড়া ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাবদ এককালীন অর্থ প্রদান করে করিম অ্যাসোসিয়েটকে। কিন্তু তারা নির্দিষ্ট সময়ে লাউঞ্জের ভাড়া পরিশোধ না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তাদের ব্যাংক হিসাবে দেয়া অর্থও তুলে নেয়া হয়েছে।

ইবিএল বলছে, ফাহাদ করিম এবং মাহবুবুর রশিদ সজ্ঞানে-স্বেচ্ছায় অসৎ ও অসাধু উপায় অবলম্বন করে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এতে করে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতিসহ ব্যাপক মানহানি হয়েছে।

ইবিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, গ্রাহকদের বিমানবন্দরে উন্নতমানের সেবা দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই স্কাইলাউঞ্জটি পরিচালনা করা হচ্ছে। করিম অ্যাসোসিয়েটস বেবিচক থেকে বিমানবন্দরের ওই জায়গাটি বরাদ্দ নিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাদের এককালীন অর্থ পরিশোধ করে স্কাইলাউঞ্জ পরিচালনা করা হচ্ছিল। তবে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানটি বেবিচকের অর্থ পরিশোধ না করায় এমন বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলাও করা হয়েছে। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক কাজী আহসানুল কবীর বণিক বার্তাকে বলেন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে করিম অ্যাসোসিয়েটসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ইবিএল। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করা হবে।