চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। সেতুটি নির্মাণ হলে চাঁদপুরের সঙ্গে শরীয়তপুরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। এছাড়া মুিন্সগঞ্জ-মতলব-চাঁদপুর ও শরীয়তপুর-ভোলা আঞ্চলিক মহাসড়ক এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হবে।

বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রস্তাবিত সেতুর লাভ-ক্ষতি, প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয়তা, যাতায়াত সুবিধা-অসুবিধা, পরিবেশ রক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছে। তাদের প্রতিবেদনের আলোকে সেতু নির্মাণের পরবর্তী কাজ এগোবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেতুটি নির্মাণ হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা সরাসরি যুক্ত হবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলার সঙ্গে। সড়কপথে চট্টগ্রামের সঙ্গে খুলনার দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার কমবে। এতে ঢাকার ওপর যানবাহনের চাপও অনেকাংশে কমে যাবে। এছাড়া তিনটি সমুদ্রবন্দরের মধ্যে সড়কপথে পণ্য পরিবহনে সময় কমিয়ে আনাও সম্ভব হবে।

সেতুর এক প্রান্তে চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট আর অন্য প্রান্তে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার আলুবাজার ফেরিঘাট। দুই ফেরিঘাটের মধ্যে দূরত্ব নদী ও চর মিলিয়ে ১০ কিলোমিটার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলুবাজার থেকে হরিণা ফেরিঘাট পর্যন্ত নদী ও চর মিলিয়ে ১০ কিলোমিটার সেতু নির্মাণ করা হলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে পণ্য সড়কপথে পরিবহনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট সুভাষ রায় জানান, সেতুটি নির্মাণ হলে চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের মানুষই শুধু লাভবান হবে না, সারা দেশে অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে।