নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা সেতুটির নির্মাণকাজ ১০ মাস আগে শেষ হলেও শুরু হয়নি সংযোগ সড়কের কাজ। সেতুর দুই প্রান্তে অর্ধশতাধিক জমির মালিক ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় নড়াইল-ফুলতলা (খুলনা) সড়কের কাজ শুরু হচ্ছে না। ফলে ১২ মাসের কাজ ৩১ মাসেও শেষ না হওয়ায় খুলনায় যাওয়ার পথ সুগম হচ্ছে না নড়াইলবাসীর। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অফিস সংযোগ সড়কের জায়গা এখনো বুঝিয়ে না দেয়ায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার মহাসড়কে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় তিনটি প্যাকেজে ২০১৯ সালের মে মাসে নড়াইল-ফুলতলা সড়কের ২৭ কিলোমিটার দুই লেনবিশিষ্ট সড়ক, চিত্রা নদীর মোহনায় ৫০ দশমিক ১২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রশস্ত গোবরা  সেতু, সংযোগ সড়ক এবং ১৯টি কালভার্টের কাজ শুরু হয়। ১১৭ কোটি ৮৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয়ে এর কার্যাদেশ পায় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. মইনুদ্দীন বাঁশি জেভি ফার্ম । এ কাজ ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের সময়কাল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ শুরুই হয়নি।

জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি হলে নড়াইল থেকে সরাসরি বিভাগীয় শহর খুলনা যেতে ৩ ঘণ্টার জায়গায় সময় লাগবে মাত্র ১ ঘণ্টা। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরিসহ বিভিন্নভাবে এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন। বাসচালক আমিনুল ইসলম জানান, বর্তমানে নড়াইল-খুলনা সড়কের দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। নড়াইল-ফুলতলা সড়কটি চালু হলে নড়াইল থেকে খুলনার দূরত্ব হবে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার। পথচারী রাকিম মিয়া জানান, সড়কটি চালু হলে খুলনার সঙ্গে নড়াইলের দূরত্ব কমবে অন্তত ৩০ কিলোমিটার। সড়কের সব কাজ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, নড়াইল-ফুলতলা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন  অসংখ্য মানুষ চলাচল করে। সড়কটি চালু হলে নড়াইল, যশোর, খুলনাসহ আশপাশের অন্তত তিন লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবে।

জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখা জানিয়েছে, সেতুর দুই প্রান্তে ১ দশমিক ২ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের জন্য ৫ দশমিক ৯ একর জমি অধিগ্রহণ, ৫১টি বাড়ি, ১৫টি দোকান এবং অনেক গাছ-গাছালি অপসারণ করতে হবে। এজন্য ৭৬টি পরিবার ১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত পেয়েছে ২৫টি পরিবার।

সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের গোবরা বাজারের চা বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত চন্দনা শীল জানান, তাদের পৌনে ৪ শতাংশ জায়গা ও একটি চায়ের দোকানের ক্ষতিপূরণের জন্য দুবছরে কমপক্ষে ২০ বার সংশ্লিষ্ট অফিসে গেলেও অদ্যাবধি ক্ষতিপূরণ পাইনি।

গোবরা বাজারের মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, দু’বছর আগে নোটিশ পেয়েছি আমাদের প্রায় ১৩ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হবে। তারপর আর কোনো নোটিশ পাইনি, শুনানিও হয়নি।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ পর্যন্ত ৮০-৮৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর দুই পাশের জায়গা বুঝে না পাওয়ায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। এখন বড়ো কাজের মধ্যে সেতুর সংযোগ সড়কের কাজই বাকি রয়েছে। আগামী জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। শিগগিরই জায়গা বুঝে না পেলে আগামী জুনের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এল.এ) শাখার কানুনগো মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় অর্থ আসতে দেরি হওয়ায় জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া বন্ধ ছিল। কয়েক দিন আগে এ অর্থ এসেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিয়েই সংশ্লিষ্ট অফিসকে জমি বুঝিয়ে দেয়া হবে। তবে যেসব জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে তা নিষ্পত্তি হলে সংশ্লিষ্ট মালিকরা ক্ষতিপূরণ পাবেন।

নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জমান বলেন, জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের বাকি অর্থ ১৫ দিন আগে জেলা প্রশাসনকে পরিশোধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সঙ্গে শুনানি শেষ হলে আমাদের জায়গা বুঝিয়ে দেয়া হবে। তখন আমরা সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করতে পারব।