সিরাজগঞ্জে শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে কাটাখালি খাল। যমুনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এ খালে একসময় পালতোলা নৌকায় পণ্য আনা-নেয়া হতো। দখল-দূষণে মৃতপ্রায় খালটির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে ২০২২ সালে শুরু হয় খননকাজ। সাড়ে ২১ কিলোমিটার খালের প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার অংশ খননে ব্যয় হয় ৫০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে খনন শেষ হলেও পানিপ্রবাহ ফেরেনি খালটিতে। বর্ষায় যমুনার পানি কিছুটা প্রবেশ করলেও বছরের অন্য সময় অনেকটা পানিশূন্য থাকছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, খালের সৌন্দর্যবর্ধনসহ তিনটি সেতু নির্মাণে ৩০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়। তবে সরকার ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এ কারণে প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। খালে পানিপ্রবাহ ফেরাতে শুধু সংস্কার যথেষ্ট নয়, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলাও বন্ধ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তদারকি না থাকায় খালের দুই পাশের বাসিন্দারা প্রতিদিন বর্জ্য ফেলছেন। এতে মশা-মাছির আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে খাল।
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা কোরবান আলী বলেন, ‘শহরের মানুষের বিনোদনের জন্য তেমন জায়গা নেই। খালটি পুনঃখনন ও সৌন্দর্যবর্ধন হলে শহরবাসী বিনোদনের সুযোগ পাবে। সেই সঙ্গে শহরের উত্তর জনপদের মানুষের সঙ্গে দক্ষিণ জনপদের মানুষের নৌ যোগাযোগ বাড়বে। খননকাজ করা হলেও পরে আমরা হতাশ হয়েছি।’
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গলির বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, ‘২০০৩ সালে কাটাখালীর সৌন্দর্যবর্ধনে উভয় পারে কয়েক হাজার বসতি উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু এখন সৌন্দর্যবর্ধন তো দূরের কথা, খালটি ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। খালের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প হাতে নেয়া দরকার। ময়লা-আবর্জনা ও তাঁতকলের কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি খালে না ফেলার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে তদারকি প্রয়োজন।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ষাটের দশকে চলাচল ও আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়নে কাটাখালী খাল খনন করা হয়। ফলে খালের উত্তর পাশ যমুনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত হয় এবং দক্ষিণ দিকে হুরাসাগর নদীতে গিয়ে মিলিত হয়। এতে পানিপ্রবাহ থাকত সারা বছর। অতীতে শহরের গোশালা থেকে ভারতের কলকাতা বন্দরে পাট রফতানি হলেও বিষয়টি এখন রূপকথার মতো। দখল হতে হতে খালের দুই পাশ ক্রমেই সরু হয়ে এসেছে।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘২০০৩ সালে খাল যখন পুনঃখনন করা হয়, তখন দুই পাশের কয়েক হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। পরে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে দাতা সংস্থা থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে টাকা লুটপাট করা হয়েছে। পৌরসভার সাবেক মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তাসহ প্রকল্পের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী লুটপাট করেছেন।’
এ ব্যাপারে পৌরসভার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম বলেন, ‘কাটাখালী খাল ও আশপাশের এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনসহ তিনটি সেতু নির্মাণে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। তবে আরো ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এ কারণে প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব হয়নি।’
পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায় বলেন, ‘কাটাখালী খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পৌরবাসীকে সচেতন করা হচ্ছে। খালের আবর্জনা পরিষ্কারে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে শ্রমিকরা কাজ করছেন।’










