ফরিদপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ডিসি অফিস) থেকে চুরি হওয়া ১২ ল্যাপটপের মধ্যে ১১টি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে এগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় চুরি ও চোরাই ল্যাপটপ কেনার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। জব্দ করা হয় একটি মোবাইল ফোন। ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান। তিনি জানান, রোববার রাতে ডিসি অফিসের রেকর্ড রুমে চুরি হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। মামলার একদিনের মধ্যে রেকর্ড রুম থেকে চুরি হওয়া ১১টি ল্যাপটপসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। 

পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন পেশাদার চোর। তারা হলেন ফরিদপুর শহরের চর কমলাপুর এলাকার সুলতান মুন্সী (২৬), শহরের পূর্ব খাবাসপুর মহল্লার সহিদুল শেখ (২২) ও শহরের লক্ষ্মীপুর মহল্লার পারভেজ শেখ (২২)। বাকি দুজন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বিনোকদিয়ার বাসিন্দা শহরের ধানসিঁড়ি হোটেলের ওয়েটার মো. লিয়ান শেখ (৩০) ও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট এলাকার উত্তর দৌলতদিয়া এলাকার মীম খান (৩০) চোরাই ল্যাপটপের ক্রেতা। 

পুলিশ সুপার জানান, প্রথমে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের লক্ষ্মীপুর মহল্লার পারভেজ খানের বাসা থেকে পারভেজ খান ও সুলতান মুন্সীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। পরে সুলতানের দেয়া তথ্যানুযায়ী, শহরের চরকমলাপুর মহল্লায় তার বাড়ি থেকে চারটি ল্যাপটপ, চোরাই মোবাইল, লোহার হাতুড়ি ও লোহার রড উদ্ধার করা হয়। 

সহিদুলকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। পরে শহরের আলীপুর থেকে লিয়নকে গ্রেফতার এবং তিনটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দুটি ল্যাপটপসহ শামীমকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। 

পুলিশ সুপার জানান, ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় জড়িত তিনজন মাদক সেবনকারী। মাদকের টাকা সংগ্রহের জন্য তারা চুরির পথ বেছে নেন। এর মধ্যে সুলতান মুন্সীর নামে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় পাঁচটি ও পারভেজ শেখের নামে ১২টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার বেশির ভাগই মাদকসংক্রান্ত। 

সংবাদ সম্মেলনে রেকর্ড রুমের দায়িত্বে নিয়োজিত ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. লিটন আলী ও এ চুরির ঘটনায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটির অহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) রামানন্দ পাল উপস্থিত ছিলেন। এ সময় এডিএম রামানন্দ পাল জানান, এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। কীভাবে চুরি সংঘটিত হয়েছে এবং কোথায় কোথায় দুর্বলতা রয়েছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. লিটন আলী জানান, রেকর্ড রুমে যে সিসি ক্যামেরা ছিল সেটিতে নাইট মোড না থাকায় ততটা কার্যকর ছিল না।

 রুমটির যেসব দুর্বলতা রয়েছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।