নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পর সরকার নিজস্ব বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলক কম দামে পণ্য বিক্রি করছে। সারা দেশের মতো ঠাকুরগাঁওয়ে এ সুবিধা চালু হলেও এ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনেক অসচ্ছল ব্যক্তি না পেলেও রাজনৈতিক প্রভাবশালী সচ্ছল ব্যক্তিরা পেয়েছেন টিসিবির কার্ড। এ চিত্র ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকাসহ আশপাশের।
ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিনমজুর আবু তাহের এবং একই ওয়ার্ডের আরেক বাসিন্দা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারা চৌধুরী। আবু তাহের দিনমজুরি করেন আর গরুর দুধ বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালালেও টিসিবির কার্ড পাননি তিনি। অন্যদিকে মনোয়ারা চৌধুরী একাধারে একটি বেসরকারি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এবং শহরের প্রাণকেন্দ্রে বহুতল বাড়ির মালিক। সরকারের ভর্তুকি মূল্যের পণ্য ক্রয়ের সুবিধা থেকে তাহেরের মতো নিম্নবিত্ত দিনমজুররা বঞ্চিত হলেও বঞ্চিত হননি মনোয়ারা চৌধুরীর মতো সচ্ছল ব্যক্তি।
টিসিবির কার্ড পাওয়া না পাওয়া নিয়ে এ ধরনের বেশকিছু উদাহরণের দেখা মিলেছে ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকায়। নীতিমালা ভেঙে ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় চলমান এ কর্মসূচির তালিকায় আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের নামে কার্ড বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে।
নিজের নামে কার্ডের কথা শুনে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারা চৌধুরী বলেন, ‘আমি কারো কাছে কার্ড চাইনি। আমি তো কার্ড পাওয়ার যোগ্যদের মধ্যে পড়িও না। তার পরও আমার নামে কীভাবে এল তা আমি জানি না।’
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় বড় মাঠে টিসিবির উপকারভোগীদের লাইনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা সফিকুল ইসলামকে দেখেও ক্ষুব্ধ হন অনেকে। একই লাইনে দাঁড়ানো ময়নুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, সফিকুল ইসলাম এলাকার একজন সচ্ছল ব্যক্তি। তার বহুতল বাড়ি ও অনেক জমিজমা আছে।
ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের ট্যাগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা বাজার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা রতন কুমার রায়। জানতে চাইলে রতন বলেন, শুধু ৪ নম্বর ওয়ার্ডেই নয়, সব ওয়ার্ডেই কিছু সচ্ছল ব্যক্তি টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান জানান, টিসিবির পণ্য বিপণনে যেসব অভিযোগ উঠেছে আমরা সেসব তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।










