রাজধানীর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর এলাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কার্যক্রম শুরু হয় ২০২০ সালে। কার্যক্রম শুরুর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এই মহাসড়কে থাকা ফুটওভার ব্রিজগুলো এখনো ঠিক করা হয়নি। এই ব্রিজগুলোর শুরু এবং শেষ দুটোই এখন সড়কের মাঝ বরাবর। ফলে যাত্রীদের ব্যস্ততম সড়ক পায়ে হেঁটে ফুটওভার ব্রিজে উঠতে হয়। আবার অন্য পাশে ফুটওভার ব্রিজ থেকে নেমে ফের রাস্তা পার হতে হয়।
সরেজমিনে মহাসড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা পার হওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে পথচারীদের। একটু ফাঁক পেলে কোনোরকম রাস্তা পার হয়ে ফুটওভার ব্রিজে উঠছেন। নামার সময়ও একইভাবে রাস্তা পার হতে হচ্ছে তাদের। এসময় তাড়াহুড়ো করে রাস্তা পার হতে দেখা যায় পথচারীদের। এসব ফুটওভার ব্রিজের একটি জসিম উদ্দিন এলাকায়, একটি রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্সের সামনে এবং আরেকটি ফ্লাইওভার ব্রিজে ওঠার আগে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফুটওভার ব্রিজের আওতাধীন সীমানার বাইরে সড়কের দুটি অংশে আগে হালকা যান তথা রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি চলাচল করতো। তখন ফুটওভার ব্রিজের নীচ দিয়ে মূলত ভারী যান চলাচল করতো। যে কারণে খুব বেশি সমস্যা হতো না। গত কয়েকমাস ধরে ফুটওভার ব্রিজের নিচের রাস্তায় কাজ চলমান থাকায় ব্রিজের বাইরের রাস্তা দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে। যার কারণে তীব্র ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হয়। মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটে এখানে।
বাসিন্দারা বলছেন, স্থানীয় উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ
এবং রাজউক কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ব্যস্ততম এই পয়েন্ট দিয়ে যাতায়াত করে। এতে
শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিনই এই ফুটওভার ব্রিজ পার হতে হয়। এছাড়া দক্ষিণখান
ও উত্তরখান থানা এলাকার হাজার হাজার মানুষও পারাপার হয়। এটির আশেপাশে রয়েছে একটি মেডিক্যাল
কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সকলকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার
হতে হয়।
তবে বিআরটি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলছেন ভিন্ন
কথা। তিনি বলেন, ফুটওভার ব্রিজের বাইরের অংশগুলো তো মূলত সার্ভিস লেন। এসব লেনে ভারী
যান চলে না। যার কারণে খুব বেশি সমস্যা হওয়ারও কথা নয়। এটি খুব সহজে পার হওয়া যায়।
আদিল চৌধুরী নামে কলেজ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ফুটওভার ব্রিজ তো দেয় যাতে মানুষ যানবাহনের মাঝখান দিয়ে রাস্তা পার না হয়। এখানে ফুটওভার ব্রিজ থাকায় আমরা রাস্তা পার হই ঠিকই, কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হয়ে বাকিটা ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে পার হতে হয়। এখন হয়তো ফুটওভার ব্রিজটা সম্প্রসারণ করতে হবে নয়তো বাইরের দুই লেনে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিতে হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশানের (ডিএনসিসি) একটি সূত্র জানায়,
জসিম উদ্দিনের ফুটওভার ব্রিজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফুটওভার ব্রিজটি নিয়ে ২০২২ সালে
সিটি করপোরেশানের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও বিআরটি’র মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। তারপর আর দৃশ্যমান
অগ্রগতি হয়নি। তবে এ ফুটওভার ব্রিজটি বিআরটি কর্তৃপক্ষের করার কথা রয়েছে।
বিআরটি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুল ইসলাম বলেন,
আমরা সবগুলোই এড্রেস করবো। আমাদের প্রজেক্টের আওতায় স্টেশনের সঙ্গে নতুন করে ফুটওভার
ব্রিজ থাকবে, এস্কেলেটর থাকবে। আর পুরনো যেগুলো আছে সেগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন
করা হবে। প্রয়োজনে কোথাও যদি নতুন করে ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করতে হয় আমরা তাও করবো।










