কোটা সংস্কারের দাবিতে ডাকা কমপ্লিট শাটডাউনে গতকাল নরসিংদীতে দিনভর তাণ্ডব চালিয়েছে আন্দোলনকারীরা। দুপুরের পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নরসিংদী জেলা কারাগার, জেলা পরিষদ কার্যালয় ও মাধবদী পৌর কার্যালয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল জুমার নামাজের পর নরসিংদী ও মাধবদী শহরের মসজিদগুলো থেকে মুসল্লিরা বের হয়ে প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলখানা মোড়ে অবস্থান নেন। বেলা ৩টায় আন্দোলনকারীরা প্রথমে নির্মাণাধীন ঢাকা-সিলেট চার লেন মহাসড়কের ঠিকাদারের দুটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে। ট্রাক দুটি নরসিংদী জেলা কারাগারের মূল ফটকের সামনে ছিল। পরে তারা জেলখানার মূল ফটকে অগ্নিসংযোগ করে। জেলখানার ভেতরে ঢুকে খাবারের গুদামে অগ্নিসংযোগ করে। চালের বস্তাসহ নানা সরঞ্জাম আসামিরা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা অস্ত্র ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান। ফটকের পাশে রাখা অস্ত্র (রাইফেল) আন্দোলনকারীরা লুট করে।
এ বিষয়ে নরসিংদীর জেল সুপার আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি হামলার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘অন্তত ৯০০ আসামি পালিয়ে গেছে। সংখ্যা এর বেশিও হতে পারে। এর মধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিও রয়েছে।’
আন্দোলনকারীরা এরপর ভেলানগরের পূর্ব পাশে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এখান থেকে মাধবদী শহরে গিয়ে পৌর মেয়রের কার্যালয়ের সামনে থাকা দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে, পরে পৌর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা পৌর মেয়রের ব্যবসায়িক কার্যালয় সোনালি টাওয়ারে গিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। বিক্ষোভকারীরা মেয়রের বাসভবনেও অগ্নিসংযোগ করে।
নরসিংদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ জানান, বিকালে রায়পুরার খানাবাড়ী স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসে আগুন দিলে ট্রেনের তিনটি বগি পুড়ে যায়। এছাড়া মাধবদী পোস্ট অফিসে আগুন দেয়ার খবর তারা পেয়েছেন। তবে নিরাপত্তার অভাবে তারা আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি।










