নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর থেকে পাওয়া প্রত্নসামগ্রী সংরক্ষণ ও জনপদটির ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রদর্শন করতে গঙ্গাঋদ্ধি নামে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৯ সাল থেকে নির্মাণকাজ শুরু করে জেলা পরিষদ। স্থানীয় সরকারের দেয়া ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকায় তিনতলাবিশিষ্ট জাদুঘরটির নির্মাণকাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরসিসিএল-আরআই। দুই বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ দফা মেয়াদ বৃদ্ধির পর ছয় বছরেও শেষ হয়নি জাদুঘরটির নির্মাণকাজ। এতে বিমুখ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা দর্শনার্থীরা।

২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর জাদুঘর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। কাজটি হচ্ছে নরসিংদী জেলা পরিষদের অর্থায়নে। প্রকল্পে ১৬ হাজার বর্গফুট জায়গা নেয়া হয়েছে। ভবনটি হবে তিনতলা। প্রথম ও দ্বিতীয় তলা হবে গ্যালারি। তৃতীয় তলায় গ্যালারির পাশাপাশি থাকবে গবেষকদের থাকার কক্ষ।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৩০ সালের দিকে স্কুলশিক্ষক হানিফ পাঠান লেখালেখির মাধ্যমে প্রত্নস্থান ওয়ারী-বটেশ্বরকে সুধী সমাজের গোচরে আনেন। প্রয়াত হানিফ পাঠানের পর তার ছেলে হাবিবুল্লাহ পাঠানের সংগ্রহ করা অনেক প্রত্নবস্তু রয়েছে পরিবারটির ব্যক্তিগত পাঠাগারে। ২০০০ সালে ঐতিহ্য অন্বেষণ নামে একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এখানে শুরু করে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ। ধারাবাহিক খননকাজে এখানে পাওয়া গেছে প্রাচীন রৌপ্য মুদ্রা, বাটখারা, লৌহ কুঠার, বল্লম, পোড়ামাটির কিন্নর ও অসংখ্য পুঁথিসহ প্রত্নবস্তু।

বেলাব উপজেলার দুটি গ্রাম ওয়ারী ও বটেশ্বরসহ পাশের শিবপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাটি খুঁড়ে বের করা হয় আড়াই হাজার বছরের পুরনো প্রত্নস্থান ও বস্তু। এসব প্রত্নস্থান ও প্রত্নবস্তুর স্থায়ী সংরক্ষণ ও দর্শনার্থীদের প্রদর্শনের লক্ষ্যে শুরু হয় গঙ্গাঋদ্ধি জাদুঘর নির্মাণকাজ।

এ ব্যাপারে নরসিংদী জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী নূর-ই ইলহাম বলেন, ‘গঙ্গাঋদ্ধি জাদুঘর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দুই-তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। যেহেতু সরকারি টাকায় জাদুঘরটির অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে ব্যক্তিগত জমিতে। নির্মাণের পর এটির ব্যবস্থাপনায় কে থাকবে, এ নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। এ জটিলতার কারণেই নির্মাণকাজ কিছুটা মন্থর গতিতে চলছে। জটিলতা নিরসনে মন্ত্রণালয়ে পরামর্শ চাওয়া হবে।’