নভেল করোনাভাইরাসজনিত মহামারীর কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৮০০টি স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের নির্ধারিত নির্বাচনগুলোর পাশাপাশি ওইসব নির্বাচনও আয়োজন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। এ সময় জাতীয় সংসদের শূন্য আসনের উপনির্বাচন, সিটি করপোরেশন, উপজেলা-জেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ ও উপনির্বাচনসহ প্রায় সাড়ে চার হাজার নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। আর এ খাতে চলতি বাজেটে যে বরাদ্দ রয়েছে তাতে এ আয়োজন সম্ভব না জানিয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটিকে ১৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, এ সাড়ে চার হাজার নির্বাচন আয়োজনের জন্য তাদের দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হবে। কিন্তু চলতি বাজেটে নির্বাচনী ব্যয় বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ৪১৪ কোটি টাকা। তাই এ খাতে বরাদ্দের প্রায় তিন গুণ অর্থাৎ ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত চায় কমিশন। সে পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনকে ১৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত হিসেবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের বরাদ্দপত্রে বলা হয়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের শূন্য আসনের উপনির্বাচন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ ও উপনির্বাচনের জন্য অর্থ বিভাগের বাজেটে অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাতের অব্যয়িত অর্থ থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় নির্বাচন খাতে মূল বরাদ্দের অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলো।

তবে এক্ষেত্রে বেশকিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে দ্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ ও দ্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮ অনুসরণসহ যাবতীয় আর্থিক বিধি-বিধান যথাযথ প্রতিপালন করতে হবে। এ অর্থ নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ অর্থ সমন্বয় করতে হবে। এছাড়া কোনো অর্থ ব্যয় না হলে তা যথাসময়ে সমর্পণ করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বণিক বার্তাকে বলেন, চলতি অর্থবছরেই প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের পাশাপশি অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনও করতে হবে। এসব নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যয়ের জন্যই আমরা ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা চেয়েছিলাম। কিন্তু অর্থ বিভাগ আপাতত ১৫০ কোটি টাকা দিয়েছে। এছাড়া পরে প্রয়োজন হলে আরো অর্থ দেয়া হবে এমন আশ্বাসও আমাদের দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

এর আগে কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের শূন্য আসনের উপনির্বাচন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ ও উপনির্বাচনসহ প্রায় চার হাজার ৪৭১টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিদ্ধান্ত থাকলেও কভিড-১৯-এর কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৮০০টি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি। এগুলোও এ বছর অনুষ্ঠিত হবে।

এতে আরো বলা হয়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বিশেষ কার্যক্রম নির্বাচন খাতে ৮৬৪ কোটি ৮৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা প্রাক্কলিত বাজেট বরাদ্দের চাহিদা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচন ব্যয় খাতে ৪১৪ কোটি ৪৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু গত অর্থবছরে অনুষ্ঠিত না হওয়া নির্বাচনসহ চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সাধারণ ও উপনির্বাচন পরিচালনা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যয় বাবদ ১ হাজার ৫০৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। তাই বরাদ্দকৃত ৪১৪ কোটি ৪৭ লাখ ৪১ হাজার টাকার চেয়ে অতিরিক্ত ১ হাজার ১৭ কোটি ৩৮ হাজার টাকা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছর মোট ৪ হাজার ৩০০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৫০০ ইউনিয়নের নির্বাচন হবে ইভিএমের (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) মাধ্যমে, বাকি ৩ হাজার ৮০০ ইউনিয়নের নির্বাচন হবে ব্যালট পেটারের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে ব্যালট পেপারের তুলনায় ইভিএমে নির্বাচন ব্যয় তুলনামূলক বেশি। প্রতিটি ইউনিয়নে ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। এ হিসেবে ৫০০টি ইউনিয়নে নির্বাচনে ব্যয় হবে ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যালট পেপারে নির্বাচনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সে অনুযায়ী ৩ হাজার ৮০০টি ইউনিয়নের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এছাড়া জাতীয় সংসদের শূন্য আসনে নির্বাচন ও দুটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা। এছাড়া ৪০টি উপজেলা, ৬৪টি জেলা পরিষদ নির্বাচন ও ৫০টি পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য ১ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা খাতে ব্যয় ধরা হয় ৪১৪ কোটি ৪৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা। বাকি অর্থ অন্যান্য খাতে ব্যয় হবে। এর আগে ২০২০-২১ সালের সংশোধিত বাজেটে ১ হাজার ৭৯৬ কোটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।