আগামীকাল শনিবার
পদ্মা
সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ আনন্দে ভাসছেন সাগর পাড়ের
উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে পটুয়াখালী
জেলা প্রশাসন ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন সংস্থা উত্সবের নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির
মধ্যে অন্যতম রয়েছে, সার্কিট হাউজ সংলগ্ন পুকুরে পদ্মা সেতুর আদলে ৩০০
ফুট দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন রেপ্লিকা সেতু নির্মাণ, ২৪, ২৫ ও ২৬ জুন তিন দিনব্যাপী শেখ রাসেল শিশু
পার্ক সংলগ্ন স্বাধীনতা চত্বরে নামি-দামি শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,
হবে
উন্মুক্ত কনসার্ট। আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাসমূহ।
দেশের দীর্ঘতম ও ব্যয়বহুল সেতু চালু
হওয়াকে কেন্দ্র করে ঘরে ঘরে আনন্দ উল্লাস যেমন, তেমনি ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন দেখছেন
পটুয়াখালীসহ দক্ষিণবঙ্গের মানুষেরা। পদ্মা সেতু শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই সহজ করবে
না; বরং আত্মকর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে লাখ লাখ মানুষের।
পদ্মা সেতু ফলে যাত্রা পথে ফেরির বিড়ম্বনা,
দুর্ভোগ ও
ভোগান্তিসহ দূরত্ব কমবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের। রাজধানী ঢাকা থেকে ফেরিবিহীন
নিরবিচ্ছিন্ন সড়ক পথের যোগাযোগের এক মহাঅধ্যায়ের সূচনা হবে এবং নদীপথে ভোগান্তি
কমবে লঞ্চ যাত্রীদের। সড়ক পথে পণ্যবাহী মালামাল আনা-নেয়ায় খরচ যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি অল্প
সময় নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থানে পৌঁছে যাবে।
সেতুটি চালু হলে পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে
খালাস হওয়া পণ্য খুব সহজেই পৌঁছে যাবে ঢাকাসহ সারাদেশে। পটুয়াখালীসহ পুরো
দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে গড়ে উঠবে শিল্প-কলকারখানা। এ সেতুকে কেন্দ্র করে সাগর সৈকত
সৌন্দের্যের লীলাভূমি কুয়াকাটার পর্যটকদের জন্য চালু হচ্ছে ভিআইপি বাস সার্ভিস।
স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে করার সুযোগ হওয়ায় পর্যটক বাড়বে কুয়াকাটা সৈকতে। সমৃদ্ধ
হবে ব্যবসা-বাণিজ্য। এসব কারণে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন
দক্ষিণাঞ্চলের দিকে। তাই আনন্দের জোয়ারে ভাসছে এখানকার মানুষ।
সেতুটি চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে
দক্ষিণাঞ্চলের সরাসরি সড়ক পথের সংযোগ স্থাপন হবে। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা আসতে সময়
লাগবে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। পায়রা সমুদ্র বন্দর ঘিরে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার পাশাপশি ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে। হবে অবকাঠামোগত
উন্নয়ন। ব্যস্ততম বন্দর হবে পায়রা সমুদ্র বন্দর। কৃষি উত্পাদনেও আমূল পরিবর্তনের
অপার সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে এখানকার মৌসুমী ফল তরমুজ এবং মুগডাল উদপাদনে
বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। কম খরচে এখন বাজারজাত করতে পারবে কৃষকরা। যার কারণে
অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে পদ্মা সেতু।
এক কথায় কৃষি,
শিল্প,
পর্যটন,
শিক্ষা,
স্বাস্থ্য
চিকিত্সা, অর্থনীতিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বপ্নের পদ্মা
সেতু বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল
হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়নের
মহাসড়কে যাত্রা করবে এবং দেশে অর্থনীতির সমৃদ্ধ ঘটবে,
যা
কল্পনার বাইরে। এককথায় দেশ হবে উন্নততর থেকে উন্নত। সর্বশেষ পদ্মা সেতু বাংলাদেশের
সক্ষমতার স্মারক। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান তিনি।










