কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে ১২ ঘণ্টা পর কুষ্টিয়া মডেল থানার একটি নাশকতা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১টার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন।

ওই ইউপি সদস্যের নাম হাসিবুর রহমান ওরফে হাসিব মেম্বর। তিনি উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। রোববার (১৭ এপ্রিল)  বিকাল ৫ টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় থেকে সাদা পোশাক পরিহিত ডিবি পরিচয়ে ৬-৭ জন তাকে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাটি অস্বীকার করে। পরে সকাল ১২টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পরিবারের কাছে স্বীকার করে পুলিশ। হাসিব দৌলতপুর উপজেলা ইউনিট বিএনপির সদস্য।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুস সালাম জানান  ঈদকে সামনে রেখে দুস্থদের মাঝে চাল বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করছিলেন হাসিব। বিকেল ৫টার দিকে ৩টি মোটরসাইকেল যোগে ৬/৭ জন  ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেন। কথা বলার জন্য তারা হাসিবকে নিয়ে যান। এরপর থেকে হাসিবের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না।

রোববার রাত ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের ওসি সাব্বির আহমেদ হাসিব মেম্বর নামে কাউকে তুলে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সোমবার কুষ্টিয়া সদর থানার ওসি সাহাদত হোসেন জানান, হাসিব বিএনপির ক্যাডার ছিলেন। ২০১৪ সালে কুষ্টিয়া শহরের অদূরে মঙ্গলবাড়িয়াতে সংঘটিত একটি নাশকতার মামলার আসামি তিনি। দুপুরে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা  হলে বেলা সাড়ে চারটায় আদালত তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

হাসিব মেম্বরের স্ত্রী উর্মি খাতুন বণিক বার্তাকে বলেন, মঙ্গলবার তার জামিন আবেদন করা হবে।

হাসিব মেম্বরের চাচা মোশারফ হোসেন বলেন, হাসিব বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। তিনি পরপর ৩ বার নির্বাচিত ইউপি সদস্য। তাকে ঘায়েল করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।