ফেনীতে বিএনপির পদযাত্রা শেষে আওয়ামী লীগের শান্তি মিছিলকে কেন্দ্র করে বিএনপি-আওয়ামী লীগ ও পুলিশের মাঝে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ-সাংবাদিক, পথচারী ও আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি নেতাকর্মীসহ অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। এ সময় ফেনী শহরের প্রধান সড়ক ট্রাংক রোড় ও প্রেসক্লাবের আশ পাশের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। হামলাকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে ফেনী প্রেসক্লাবসহ আশপাশের ভবনের দরজা জানালার কাঁচ সমূহ ভেঙে যায়। সড়কে থাকা কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর হয়।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির পদযাত্রা শেষে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শহরে শান্তি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ফেনী পৌরসভা চত্বর থেকে শুরু হয়ে ট্রাংক রোড়ের জিরো পয়েন্ট হয়ে তাকিয়া রোড়ের মাথায় যায়। সেখান থেকে আবার শহীদ মিনারে ফেরার পথে প্রেসক্লাবের পাশে খাজা আহাম্মদ সড়কের মাথায় পৌঁছলে কে বা কারা একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে শহরে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এসময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল এবং ককটেল নিক্ষেপ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. নিজাম উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও পথচারীসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে।
ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল দাবি করেন, এ সময়ে তাদের অন্তত ৫০ জন দলীয় নেতাকর্মী আহত হয়েছে। ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল দাবি করেন, তাদের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, ফেনীতে শান্তিপূর্ণভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি শেষে ইসলামপুর রোড়ের মাথা এবং প্রেসক্লাবের সামনে পৃথক উস্কানিমূলক ঘটনায় সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়।










